ফাইব্রয়েড (জরায়ুর টিউমার)
ফাইব্রয়েড হল জরায়ুর একটি অস্বাভাবিক টিউমার, যা মহিলাদের ইউটেরাস বা জরায়ুতে বৃদ্ধি পায়। এটি জরায়ুর বাইরের ও ভিতরের প্রাচীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফাইব্রয়েড কখনো ছোট আকারে থাকে, আবার কখনো বড় হয়ে তলপেটে ব্যথা, মাসিকের অতিরিক্ত রক্তপাতসহ নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। অনেক সময় ফাইব্রয়েড থাকলেও কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে চিকিৎসা না করলে ভবিষ্যতে গর্ভধারণে অসুবিধা, ওজন বৃদ্ধি ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ফাইব্রয়েডের প্রকারভেদ
১. ইন্ট্রামিউরাল ফাইব্রয়েড
- জরায়ুর ভিতরের প্রাচীরে বৃদ্ধি পায়।
- আকার বড় হলে পেটের ফোলা ভাব স্পষ্ট দেখা যায়।
- মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
২. সাবসেরাস ফাইব্রয়েড
- জরায়ুর বাহিরের প্রাচীরে (সেরোসা) বৃদ্ধি পায়।
- আকার বড় হলে জরায়ুর আকার বৃদ্ধি পেতে পারে।
৩. সাব-মিউকাস ফাইব্রয়েড
- জরায়ুর ক্যাভিটিতে বৃদ্ধি পায়, যেখান থেকে ঋতুস্রাব হয়।
- তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়।
ফাইব্রয়েডের সম্ভাব্য কারণ
- জরায়ুর হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন এর প্রভাব।
- বংশগত কারণ – পরিবারে কারো থাকলে সম্ভাবনা বেশি।
- গর্ভাবস্থায় হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফাইব্রয়েড সৃষ্টি বা বৃদ্ধি হতে পারে।
ফাইব্রয়েডের লক্ষণ
- ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত, অনেক সময় জমাট রক্তসহ।
- তলপেট বা কোমরে ব্যথা।
- ঋতুস্রাবের সময় পেট ব্যথা বা খিঁচুনি।
- যৌনমিলনের সময় ব্যথা বা অস্বস্তি।
- ঋতুস্রাব স্বাভাবিকের থেকে দীর্ঘস্থায়ী হওয়া।
- পেটের নিচে চাপ বা ভার অনুভূত হওয়া।
👉 লক্ষণ নির্ভর করে টিউমারের সংখ্যা ও আকারের উপর। যেমন সাব-মিউকোসাল ফাইব্রয়েড অতিরিক্ত রক্তপাত ও গর্ভধারণে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ছোট আকারের ফাইব্রয়েড বা মেনোপজের পর সাধারণত লক্ষণ কমে যায়।
ফাইব্রয়েডের চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় অসংখ্য জরায়ুর টিউমার সফলভাবে নিরাময় হচ্ছে। কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ঔষধের মাধ্যমে ফাইব্রয়েড চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ।
এম এম এইচ আহমদ
মাদানী হোমিওপ্যাথিক ইন্টারন্যাশনাল
আরো পড়ুন












