এনাল ফিসারের পরিচয়
এনাল ফিসার একটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও অস্বস্তিকর পায়ুপথের রোগ। অনেক সময় রোগীরা লজ্জা বা সংকোচের কারণে কারও সাথে শেয়ার করতে পারেন না, আবার যন্ত্রণার তীব্রতা এমন যে তা সহ্য করাও কঠিন হয়ে পড়ে। হাঁটতে, বসতে বা টয়লেট করতে গেলেই যেন অস্বস্তি ও তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। সাধারণ মানুষ পায়ুপথের সব সমস্যাকেই পাইলস বলে মনে করেন—কিন্তু পাইলস ছাড়াও পায়ুপথে আরও অনেক রোগ হয়, তার মধ্যে এনাল ফিসার একটি অত্যন্ত সাধারণ রোগ।
সহজ কথায়, এনাল ফিসার হলো পায়ুপথের চামড়ায় ছোট একটি ছিঁড়ে যাওয়া ক্ষত। সাধারণত অতিরিক্ত কোষ্ঠকাঠিন্য, শক্ত মল বা মলত্যাগের সময় বেশি চাপ দেওয়ার কারণে পায়ুপথ ফেটে গিয়ে এই ক্ষত তৈরি হয়।
এনাল ফিসারের কারণ
১. কোষ্ঠকাঠিন্য
-
শক্ত মল বা জোরে চাপ দিয়ে মলত্যাগ করার ফলে পায়ুপথ ছিঁড়ে যায়।
-
কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রধান কারণ:
-
আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া
-
ফলমূল ও শাকসবজি কম খাওয়া
-
২. ঘন ঘন ডায়রিয়া
-
অতিরিক্ত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার কারণে পায়ুপথে জ্বালা সৃষ্টি হয়ে ফিসার হতে পারে।
৩. অনিয়মিত টয়লেট অভ্যাস
-
মল চেপে রাখা
-
ঠিকমতো পানি না খাওয়া
-
দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা
এনাল ফিসারের লক্ষণ
মলত্যাগের সময় তীব্র ব্যথা
-
পায়ুপথ অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গা হওয়ায় ক্ষত থাকলে মলত্যাগের সময় তীব্র ব্যথা হয়।
-
কারও ৩০ মিনিট, কারও পুরো দিনব্যাপী ব্যথা থাকতে পারে।
-
ব্যথা তলপেট ও পা পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।
হালকা রক্তপাত
-
মলের গায়ে, টিস্যুতে বা কমোডে কয়েক ফোঁটা রক্ত দেখা যায়।
চুলকানি ও অস্বস্তি
-
ক্ষতস্থানে ঝাঁঝুনি, পোড়া অনুভূতি ও অস্বস্তি থাকতে পারে।
রোগী ব্যথার ভয়ে টয়লেটে যেতে না চাইলে কোষ্ঠ আরও শক্ত হয়, ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে।
ঘরোয়া প্রতিকার
১. আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া
ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং ফিসার দ্রুত সারতে সাহায্য করে।
ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার:
-
আপেল, পেঁপে, নাশপাতি, কমলা, আনারস
-
শাকসবজি, টমেটো, গাজর, কুমড়া
-
ডাল, মটরশুঁটি, ক্যাবেজ
২. প্রচুর পানি পান করুন
-
দৈনিক অন্তত ৮–১২ গ্লাস পানি।
-
খাওয়ার সময় পানি না খেয়ে খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে বা পরে পানি পান করা উত্তম।
৩. নিয়মিত ব্যায়াম
-
প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা, ব্যাডমিন্টন, বাগান করা বা ঘরের কাজ কোষ্ঠ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
৪. পেট্রোলিয়াম জেলি বা অলিভ অয়েল ব্যবহার
-
মলত্যাগের আগে সামান্য পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করলে ব্যথা কম হয়।
৫. গরম পানিতে সেঁক (সিটজ বাথ)
-
একটি টবে কুসুম গরম পানিতে অল্প লবণ মিশিয়ে
-
১৫ মিনিট কোমর পর্যন্ত ডুবিয়ে বসুন
এভাবে ব্যথা ও অস্বস্তি দ্রুত কমে।
হোমিওপ্যাথিতে এনাল ফিসারের চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথিতে এনাল ফিসারের সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও স্থায়ী চিকিৎসা রয়েছে—সার্জারির প্রয়োজন হয় না।
অনেক ক্ষেত্রে অপারেশন করার পরও সমস্যা ফিরে আসে এবং আরও জটিল রূপ নেয়। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগীর সম্পূর্ণ ইতিহাস, অভ্যাস, শারীরিক গঠন ও লক্ষণ দেখে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন ওষুধ দেওয়া হয়।
কেন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক প্রয়োজন?
-
সঠিক রোগ পর্যবেক্ষণ
-
সঠিক ওষুধ
-
সঠিক মাত্রা
-
সঠিক সময়কাল
এসবের ওপর চিকিৎসার সাফল্য নির্ভর করে।
আমাদের মাদানি হোমিওপ্যাথিক ইন্টারন্যাশনাল-এ
অপারেশনের পরেও বারবার ফিরে আসা এনাল ফিসারের অসংখ্য সফল চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে—আলহামদুলিল্লাহ।
শেষ কথা
এনাল ফিসার খুব কষ্টদায়ক হলেও চিকিৎসা নিলে এটি পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।
অযথা লজ্জা বা অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় যত্ন নিন এবং একজন দক্ষ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ইনশাআল্লাহ দ্রুত আরোগ্য লাভ করবেন।
এম এম এইচ আহমদ
মাদানী হোমিওপ্যাথিক ইন্টারন্যাশনাল
আরো পড়ুন
ভাল হয়ে গেল লিভার ক্যান্সারসহ টিউমার








