সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
যক্ষা রোগ (Tuberculosis) একটি মারাত্মক সংক্রামক অসুখ। যা Mycobacterium tuberculosis জীবাণুর কারণে হয়। সাধারণত এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে। তবে শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কাশি, দুর্বলতা এবং শ্বাসকষ্ট এর প্রধান লক্ষণ। সময়মতো চিকিৎসা না করলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
যক্ষা রোগের লক্ষণ
সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
- দীর্ঘস্থায়ী কাশি ও অতিরিক্ত ঘাম
- ক্ষুধামন্দা ও ওজন কমে যাওয়া
- রক্তসহ কাশি
- ফুসফুসে ব্যথা
- হাড় ও অস্থিতে ব্যথা
- শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা
- চোখে অস্বস্তি ও দুর্বলতা
👉 এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এই রোগের জীবাণু
যক্ষা রোগের জীবাণুর নাম হলো Mycobacterium tuberculosis। এটি একটি ক্ষুদ্র একক-সেলুলার ব্যাকটেরিয়া যা শরীরে প্রবেশ করলে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সংক্রমণ ঘটায়।
যক্ষা রোগের টিকা
এই রোগের প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর টিকা হলো বিসিজি (BCG) টিকা। এটি শিশুদের জন্মের পরপরই দেওয়া হয়। যা রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।
যক্ষা রোগ কত প্রকার
যক্ষা রোগ মূলত দুই প্রকারের হয়:
- সক্রিয় যক্ষা (Active Tuberculosis): জীবাণু সক্রিয় অবস্থায় থাকে এবং লক্ষণ প্রকাশ করে।
- নিবাসিত যক্ষা (Latent Tuberculosis): জীবাণু শরীরে থাকে কিন্তু সক্রিয় হয় না। তবে পরবর্তীতে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কি কারণে হয়?
- সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে জীবাণু ছড়ায়
- আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ
- অপরিষ্কার পরিবেশ ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
প্রতিরোধের ব্যবস্থা
যক্ষা প্রতিরোধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ:
- টিকা গ্রহণ: বিসিজি টিকা শিশুদের দেওয়া উচিত।
- হোমিও চিকিৎসা: হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় এই রোগ থেকে সুস্থ হওয়া যায়।
- সুস্থ জীবনযাপন: পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম।
- ব্যক্তিগত সাবধানতা: আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।
- পরীক্ষা ও চিকিৎসা: লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা।
- সামাজিক সচেতনতা: পরিষ্কার পরিবেশ বজায় রাখা।
ঘরোয়া প্রতিরোধ ব্যবস্থা
- স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও নিয়মিত ব্যায়াম
- ঘর ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখা
- আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা ও ওষুধ গ্রহণ
আরো পড়ুন….











