ভূমিকা
“গলার রোগ” মূলত গলা বা স্বরযন্ত্রের যেকোনো ধরণের অস্বস্তি বা অসুখ নির্দেশ করে। গলার রোগের নানা ধরন রয়েছে, যেমন:
- ভাইরাল ফ্যারিনজাইটিস (Viral Pharyngitis): ভাইরাসের কারণে গলার সংক্রমণ, যা সাধারণত ঠান্ডা লাগা বা ফ্লুর সাথে হয়।
- ব্যাকটেরিয়াল টনসিলাইটিস (Bacterial Tonsillitis): টনসিলে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ, যা স্ট্রেপ থ্রোট হিসাবেও পরিচিত।
- ল্যারিনজাইটিস (Laryngitis): স্বরযন্ত্রের প্রদাহ, যা অনেক সময় খুশখুশে গলা বা কণ্ঠস্বর হারানোর কারণ হয়।
- এলার্জিক রিঅ্যাকশন (Allergic Reactions): অ্যালার্জেনের প্রতি প্রতিক্রিয়া যা গলার চুলকানি, ফুলে যাওয়া বা অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি করে।
গলার বিভিন্ন রোগের তালিকা নিম্নলিখিত:
- ফ্যারিনজাইটিস (Pharyngitis): গলার প্রদাহ, যা সাধারণত ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের ফলে হয়।
- টনসিলিটিস (Tonsillitis): টনসিল গ্রন্থির প্রদাহ, যা ব্যথা এবং গিলতে সমস্যা সৃষ্টি করে।
- ল্যারিনজাইটিস (Laryngitis): স্বরযন্ত্রের (ল্যারিংক্স) প্রদাহ, যা খুসখুস গলা এবং আওয়াজ বসে যাওয়ার কারণ।
- স্ট্রেপ টনসিলিটিস (Strep Throat): স্ট্রেপটোককাস ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া এক ধরনের গলার ইনফেকশন।
- গলার অ্যাবসেস (Peritonsillar Abscess): টনসিল এলাকায় পুঁজ জমার ফলে হওয়া এক ধরনের অ্যাবসেস।
- এপিগ্লোটাইটিস (Epiglottitis): এপিগ্লটিসের দ্রুত ও গুরুতর প্রদাহ, যার ফলে শ্বাস নেওয়ায় সমস্যা হয়।
- আডেনোইডের প্রদাহ (Adenoiditis): আডেনোইড গ্রন্থির ইনফেকশন।
- হোয়াইপিং কাফ (Whooping Cough or Pertussis): গলার প্রবল কাশি, যা ব্যাকটেরিয়া পার্ট্যুসিসের কারণে হয়।
- ডিপথেরিয়া (Diphtheria): একটি বিরল কিন্তু গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন যা গলা এবং টনসিলে প্রভাব ফেলে।
- গলার মুখগহ্বর ক্যান্সার (Oropharyngeal Cancer): গলার কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার ঘটাতে পারে।
সাধারণ লক্ষণ সমূহ:
- গলা ব্যথা বা খসখসে ভাব
- খাওয়ার সময় ব্যথা
- জ্বর
- স্ফীত লিম্ফ নোড
- মাথাব্যথা
- ক্লান্তি
চিকিৎসা:
- অনেক সময় বিশ্রাম এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করে লক্ষণ নিরাময় সম্ভব হয়।
- ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে।
- এলার্জির কারণ হলে এন্টিহিস্টামিন বা ন্যাজাল স্প্রের মতো এলার্জি ওষুধ সাহায্য করতে পারে।
- গলার দুর্বলতা বা যন্ত্রণা লাঘব করতে গরম পানি ও লবণের গার্গল, মধু ও লেবুর পানি বা থ্রট লোজেন্জেস ব্যবহার করা যেতে পারে।
গলার রোগের ক্ষেত্রে বিশেষ পরামর্শ বা স্থায়ী সমাধানের জন্য একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, বিশেষত যদি লক্ষণগুলো দীর্ঘমেয়াদী হয় বা ভালো না হয়।
গলার রোগের লক্ষণগুলি সাধারণত গলা ব্যথা, খুসখুসে গলা, গলার চুলকানি, গিলতে কষ্ট হওয়া, স্বর পরিবর্তন, গলায় ফুলা অনুভূতি এবং কাশি ইত্যাদি। এই রোগগুলির জন্য সঠিক নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন হয়।










