রোজা অবস্থায় আধুনিক চিকিৎসা: শরীয়তের দৃষ্টিতে সঠিক হুকুম
বর্তমান যুগে চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত উন্নত হওয়ায় রোজা রেখে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে মুসলমানদের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়— কোন চিকিৎসায় রোজা ভাঙবে? আর কোন চিকিৎসায় ভাঙবে না?
নিচে সংক্ষেপে ও সহজ ভাষায় সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
🧠 ১. মাথার অপারেশন
মাথায় অপারেশন করলে বা কোনো ওষুধ প্রয়োগ করলে রোজা ভঙ্গ হয় না।
কারণ মাথা থেকে গলা পর্যন্ত কোনো খোলা পথ নেই।
👂 ২. কানে ড্রপ বা ওষুধ
কানে তেল, ড্রপ বা ওষুধ দিলে রোজা ভাঙে না।
কারণ কান থেকে গলায় কোনো পথ নেই।
👁️ ৩. চোখে ড্রপ/সুরমা/মলম
চোখে ওষুধ দিলে রোজা ভঙ্গ হয় না, যদিও স্বাদ গলায় অনুভূত হতে পারে।
👃 ৪. নাকে ড্রপ, ওষুধ বা পানি
নাক শরীরের একটি গ্রহণযোগ্য রাস্তা।
নাক দিয়ে কিছু টেনে নিলে বা ড্রপ গেলে রোজা ভেঙে যায়।
🫁 ৫. অক্সিজেন নেওয়া
অক্সিজেন গ্যাস জাতীয় এবং দেহগত বস্তু নয়।
অক্সিজেন নিলে রোজা ভাঙে না।
💊 ৬. মুখে ওষুধ গ্রহণ
মুখে ওষুধ নিয়ে গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যায়— যতই অল্প হোক।
🌬️ ৭. ইনহেলার বা সালবুটামল
ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যায়।
ওষুধটি দেহে প্রবেশ করে এবং এটি দেহগত বস্তু।
➡ যদি স্প্রে করে সঙ্গে সঙ্গে না গিলে ফেলে দেওয়া হয়, তবে রোজা ভাঙবে না।
🤲 ইনহেলার ব্যবহারের শরীয়তসম্মত নিয়ম
-
সাহরীতে ডোজ নিয়ে ইফতার পর্যন্ত চেষ্টা করা।
-
কেউ যদি বাধ্য হয়ে দিনে ব্যবহার করে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে কিন্তু গুনাহ নেই। তাকে পরে কাজা করতে হবে।
📹 ৮. এন্ডোসকপি (ENDOSCOPY)
এন্ডোসকপিতে সাধারণত ওষুধ দেওয়া হয় না— তাই রোজা ভাঙে না।
➡ তবে যদি পাইপে ওষুধ বা পানি থাকে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।
❤️ ৯. নাইট্রোগ্লিসারিন (জিহ্বার নিচে ট্যাবলেট)
এটি ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যায়, কারণ কিছু অংশ গলায় যেতে পারে।
➡ তবে যদি না গিলে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে রোজা থাকে।
🩸 ১০. রক্ত দেওয়া ও নেওয়া
রক্ত দেওয়া বা নেওয়া— কোনোটাতে রোজা ভাঙে না।
🫀 ১১. এনজিওগ্রাম
এনজিওগ্রাম করলে রোজা ভাঙে না।
💉 ১২. ইনজেকশন
মাংস বা রগ— যে কোনো জায়গায় ইনজেকশন দিলে রোজা ভাঙে না।
💉 ১৩. টিকা (Vaccine)
টিকা নিলে রোজা ভেঙে যায় না।
💧 ১৪. স্যালাইন
স্যালাইন দিলে রোজা ভাঙে না, তবে রোজাদারকে শক্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেওয়া মাকরূহ।
🩺 ১৫. ইনসুলিন
ইনসুলিন দিলে রোজা ভাঙে না।
🟡 ১৬. পেশাবের রাস্তায় ওষুধ
ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ওষুধ দিলে রোজা থাকে।
🟣 ১৭. যোনিদ্বারে ওষুধ (VAGINA)
যোনিদ্বারে ওষুধ বা মেডিকেল যন্ত্র ব্যবহার করলে রোজা ভাঙে না।
🩻 ১৮. সিস্টোসকপি (CYSTOSCOPY)
এটি করালে রোজা থাকে।
🤰 ১৯. গর্ভপাত–সংক্রান্ত হুকুম
ক) এম আর (M.R)
-
এম আর করলে রোজা ভেঙে যায়, কারণ এতে রক্তস্রাব হয়।
-
যদি ইফতারের পরে রক্ত বের হয়, রোজা ঠিক থাকবে।
খ) D&C
-
D&C করলে রোজা ভেঙে যায়।
-
পরবর্তী রক্ত নিফাস হিসেবে গণ্য হবে।
🟤 ২০. কপার-টি (COPER-T)
-
কপার-টি লাগালে রোজা ভাঙে না।
-
কিন্তু সহবাস করলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাফফারা লাগবে।
🟤 ২১. সাপোজিটরি/ভোল্টারিন
মলদ্বার দিয়ে প্রয়োগ হওয়ায় রোজা ভেঙে যায়।
🟤 ২২. ডুশ (Douche)
মলদ্বার দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করায় রোজা ভেঙে যায়।
🟤 ২৩. প্রক্টোসকপি (PROCTOSCOPY)
মলদ্বারে পিচ্ছিল পদার্থ ব্যবহারের কারণে রোজা ভেঙে যায়।
🔪 ২৪. ল্যাপারোস্কপি-বায়োপসি
পেট ছিদ্র করে নেওয়া পরীক্ষায় রোজা ভাঙে না,
যতক্ষণ না কোনো ওষুধ ভেতরে গিয়ে হজম হয়।
🪡 ২৫. সিরোদকার অপারেশন
এ অপারেশনে বা সামান্য রক্তপাত হলে রোজা ভাঙে না।
📌 উপসংহার
রোজা অবস্থায় আধুনিক চিকিৎসা গুলোর অনেকগুলোতই রোজা ভাঙে না। তবে নাক, মুখ ও মলদ্বার— এ তিনটি শরীয়তের গ্রহণযোগ্য প্রবেশপথ। এসব পথ দিয়ে ওষুধ বা তরল প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যায়।
মাদানী হোমিওপ্যাথিক ইন্টারন্যাশনাল
আরো পড়ুন






