গর্ভধারণের চতুর্থ সপ্তাহ
গর্ভধারণের প্রথম দিককার সময়গুলো অনেকটাই অজানা ও কৌতূহলপূর্ণ হয়ে থাকে। বিশেষ করে চতুর্থ সপ্তাহে বেশিরভাগ মা এখনো বুঝতে পারেন না যে তারা গর্ভবতী হয়েছেন। অথচ এই সময়েই ভ্রূণ জরায়ুর ভেতরে নিজের জায়গা করে নিতে শুরু করে এবং ভবিষ্যতের শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনের ভিত্তি তৈরি হয়। তাই এ সপ্তাহে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা ও মানা অত্যন্ত জরুরি—যেমন প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট প্রস্তুত রাখা, আয়রন-ফলিক এসিড ট্যাবলেট খাওয়া, স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকা অনুসরণ করা এবং ধূমপানের পরিবেশ এড়িয়ে চলা। একইসাথে বাবারও কিছু দায়িত্ব রয়েছে, যেমন বাজারে সচেতন থাকা, মাকে ব্যায়ামে উৎসাহ দেওয়া এবং ধূমপান ত্যাগ করা।
এই লেখায় আমরা তুলে ধরব চতুর্থ সপ্তাহে মায়ের শরীরের পরিবর্তন, শিশুর বৃদ্ধি, সম্ভাব্য লক্ষণ, খাবারের পরিকল্পনা এবং মা-বাবার করণীয় বিষয়গুলো। এটি আপনাকে গর্ভধারণের শুরুতেই সঠিক প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে।
🟢 এ সপ্তাহের হাইলাইটস
- প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কিনে রাখুন
- কোন ডাক্তার দেখাবেন তা ঠিক করুন
- ধূমপানের আশেপাশে থাকবেন না
- আয়রন-ফলিক এসিড ট্যাবলেট খাওয়া চালিয়ে যান
👶 ৪ সপ্তাহে শিশুর বৃদ্ধি
- ভ্রূণ জরায়ুর গায়ে গেঁথে যাচ্ছে
- আকারে পোস্তদানার মতো ছোট
- বাইরের কোষ → গর্ভফুল তৈরি করবে
- ভেতরের কোষ → শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি হবে
🤰 ৪ সপ্তাহে মায়ের শরীর
- মাসিক দেরি হওয়া → গর্ভধারণের প্রথম লক্ষণ
- hCG হরমোনের কারণে মাসিক বন্ধ হয়
- প্রেগন্যান্সি টেস্টে hCG শনাক্ত হয়
- সম্ভাব্য লক্ষণ:
- স্তনে ব্যথা
- ক্লান্তি
- বমি বমি ভাব
- পেট ফাঁপা
- সাদা স্রাব বৃদ্ধি
- ঘন ঘন প্রস্রাব
- খাবারে অরুচি বা আকাঙ্ক্ষা
🧪 প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট কেনা
- মাসিক না হলে টেস্ট করুন
- টেস্টে পজিটিভ এলে দ্রুত ডাক্তার দেখান
- আগেভাগে ডাক্তার নির্বাচন করুন
🥗 খাবারের পরিকল্পনা
- প্রতিদিন অন্তত ৪০০ গ্রাম ফল ও শাকসবজি
- প্রতি বেলায় অর্ধেক প্লেট শাকসবজি ও ফল
- হালকা নাস্তা: ফল, শসা, গাজর, টমেটো
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন
👨👩👦 বাবার করণীয়
- মায়ের সাথে খাবারের পরিকল্পনা করুন
- বাজারে ফল ও শাকসবজি কিনুন
- ধূমপান ছেড়ে দিন
- মাকে ব্যায়ামে উৎসাহ দিন 1
উপসংহার
গর্ভধারণের চতুর্থ সপ্তাহে মা ও বাবার জন্য সচেতনতা ও প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ভ্রূণ জরায়ুতে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতের শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনের প্রাথমিক ধাপ শুরু হচ্ছে। তাই প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট প্রস্তুত রাখা, আয়রন–ফলিক এসিড ট্যাবলেট খাওয়া, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং ধূমপান এড়িয়ে চলার মতো পদক্ষেপগুলো গর্ভাবস্থাকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর করে তোলে।
একইসাথে বাবার সহযোগিতা, বাজারে সচেতনতা, ব্যায়ামে উৎসাহ দেওয়া এবং ধূমপান ত্যাগ করা মায়ের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। দুজনের মিলিত প্রচেষ্টা এই যাত্রাকে আরও সুন্দর, নিরাপদ এবং আনন্দময় করে তুলবে।
আরো পড়ুন……
গর্ভধারণের ৩ সপ্তাহের হাইলাইটস: আয়রন-ফলিক এসিড, প্রেগন্যান্সি টেস্ট ও বাবার করণীয়










