গর্ভধারণের প্রথম সপ্তাহে কী ঘটে?
গর্ভধারণ একটি দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা, যা শুরু হয় প্রথম সপ্তাহ থেকেই। যদিও এ সময়টিতে শিশুর জীবন শুরু হয়নি, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটিই গর্ভাবস্থার সূচনা ধরা হয়। এই সপ্তাহে মায়ের শরীর নতুন জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে এবং বাবারও কিছু দায়িত্ব থাকে। মাসিকের কারণে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলেও জরায়ু ধীরে ধীরে ভ্রূণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং, আয়রন–ফলিক এসিড গ্রহণ এবং জীবনধারায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা—সবকিছুই ভবিষ্যৎ শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য অপরিহার্য। তাই গর্ভধারণের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সচেতনতা ও যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এ সপ্তাহে গর্ভধারণের আগে আপনার শেষবারের মতো মাসিক হবে। যদিও এখনো গর্ভধারণ হয়নি, ডাক্তারি হিসেবে এই সময়টাকেই গর্ভাবস্থার প্রথম সপ্তাহ ধরা হয়। অর্থাৎ ৪০ সপ্তাহের যাত্রা এখন থেকেই শুরু হচ্ছে।
গর্ভধারণের প্রথম সপ্তাহ শিশুর বৃদ্ধি
- প্রথম সপ্তাহে শিশুর জীবন শুরু হয়নি।
- আগামী ৩ সপ্তাহে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনে ভ্রূণ তৈরি হবে।
- জরায়ু ভ্রূণের জন্য বাসা তৈরি করতে শুরু করবে।
মায়ের শরীরের পরিবর্তন
- মাসিকের কারণে PMS লক্ষণ দেখা দিতে পারে: পেট ফাঁপা, স্তনে ব্যথা, মুড সুইং, ত্বকে দাগ ইত্যাদি।
- শরীর গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।
থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং পরীক্ষা
- থ্যালাসেমিয়া হলে মারাত্মক রক্তশূন্যতা হতে পারে।
- বাবা-মা বাহক হলে সন্তান আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- একটি সহজ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় আপনি বাহক কি না।
- মা ও বাবার দুজনেরই পরীক্ষা করানো জরুরি। 1
আয়রন-ফলিক এসিড ট্যাবলেট
- শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র সুস্থভাবে বিকাশের জন্য আয়রন–ফলিক এসিড অপরিহার্য।
- গর্ভধারণের আগে থেকেই প্রতিদিন ট্যাবলেট খাওয়া উচিত।
- দেরি না করে এ সপ্তাহ থেকেই শুরু করুন।
বাবার করণীয়
- থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং করান।
- সঙ্গীর নিয়মিত ওষুধ (অ্যালোপ্যাথিক, হারবাল, কবিরাজি) ডাক্তারকে জানান।
- ধূমপান ছেড়ে দিন, কারণ এটি শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
শেষ কথা
গর্ভধারণের প্রথম সপ্তাহে আসলে নতুন জীবনের সূচনা হয় না, বরং এটি প্রস্তুতির সময়। মায়ের শরীর ধীরে ধীরে ভ্রূণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে থাকে এবং বাবারও দায়িত্ব থাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জীবনধারায় পরিবর্তন আনার। আয়রন–ফলিক এসিড গ্রহণ, থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং এবং ধূমপান ত্যাগের মতো পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যৎ শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুরু থেকেই সচেতনতা ও যত্ন নেওয়া হলে একটি নিরাপদ ও আনন্দময় মাতৃত্বের যাত্রা সম্ভব হয়।
আরো পড়ুন…..
গর্ভধারণের ৩ সপ্তাহের হাইলাইটস: আয়রন-ফলিক এসিড, প্রেগন্যান্সি টেস্ট ও বাবার করণীয়










