করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কাটতে না কাটতেই নতুন করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মাঙ্কিপক্স ভাইরাস। অনেকেই প্রশ্ন করছেন—এটি কি কোভিডের মতো ভয়ঙ্কর? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঙ্কিপক্স তুলনামূলকভাবে কম সংক্রামক হলেও এটি একটি বিরল ও জটিল রোগ। চলুন জেনে নেওয়া যাক এর বিস্তারিত।
মাঙ্কিপক্স কী?
এটি হলো এক ধরনের বিরল বসন্ত জাতীয় ভাইরাসজনিত রোগ। জলবসন্ত বা গুটিবসন্তের মতো পরিচিত না হলেও এর উপসর্গ অনেকটাই মিল রয়েছে। মূলত পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার কিছু দেশে এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও এটি ছড়িয়ে পড়েছে।
মাঙ্কিপক্স আক্রান্তদের উপসর্গ
- প্রথমে জ্বর, মাথা ব্যথা, পিঠ ও শরীর ব্যথা
- কাঁপুনি ও অতিরিক্ত ক্লান্তি
- লসিকা গ্রন্থি ফুলে ওঠা
- মুখে ছোট ক্ষতচিহ্ন, যা ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে
- হাম, বসন্ত ও সিফিলিসের সঙ্গে কিছুটা মিল থাকায় অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়
সংক্রমণ কীভাবে ছড়ায়?
- বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে ইঁদুরের মাধ্যমে
- আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়
- যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়াতে পারে, বিশেষত যৌনাঙ্গে গুটি দেখা যায়
- শ্বাসনালি, ক্ষত স্থান, নাক, মুখ ও চোখের মাধ্যমে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে
- আক্রান্ত ব্যক্তির পোশাক-পরিচ্ছেদ থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে
ইতিহাস
- প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৫৮ সালে ডেনমার্কে পরীক্ষাগারে বানরের শরীরে
- মানুষের মধ্যে প্রথম কেস পাওয়া যায় ১৯৭০ সালে কঙ্গোতে
- ১৯৭০–১৯৭৯ সালে প্রায় ৫০টি কেস রিপোর্ট হয়, যার বেশিরভাগই জায়ারে
- ১৯৮৬ সালের মধ্যে ৪০০টিরও বেশি কেস রিপোর্ট হয়, মৃত্যুহার ছিল প্রায় ১০%
- বর্তমানে অন্তত ১২টি দেশে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত
উপসংহার
মাঙ্কিপক্স ভাইরাস এখনো তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও বিশ্বজুড়ে এর বিস্তার উদ্বেগজনক। সচেতনতা, প্রাথমিক উপসর্গ চিহ্নিতকরণ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধই হতে পারে এর মোকাবেলার প্রধান উপায়।
এম এম এইচ আহমদ
মাদানী হোমিওপ্যাথিক ইন্টারন্যাশনাল
আরো পড়ুন












