মাথা ব্যথা
এটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ সমস্যা। তবে সব মাথা ব্যথার ধরন এক নয়। কখনও ক্লান্তি বা মানসিক চাপের কারণে হয়, আবার কখনও এটি বড় ধরনের রোগের লক্ষণও হতে পারে। চলুন জেনে নেই মাথা ব্যথার প্রকারভেদ ও ঘরোয়া চিকিৎসার উপায়।
মাথা ব্যথার প্রকার
১. টেনশন টাইপ হেডেক (TTH)
-
সারা মাথাজুড়ে হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা হয়।
-
চলাফেরায় ব্যথা বাড়ে না।
-
ক্লান্তি, অবসাদ, ঘুমের অভাবে বাড়তে পারে।
২. মাইগ্রেন হেডেক
-
সাধারণত মাথার একপাশে হয়।
-
থেমে থেমে তীব্র ব্যথা হয়।
-
আলো, শব্দ ও শারীরিক পরিশ্রমে বাড়ে।
-
কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত থাকতে পারে।
৩. ক্লাস্টার হেডেক
-
চোখ বরাবর তীব্র ব্যথা হয়।
-
চোখ লাল হয়ে যায়, পানি পড়ে।
-
দিনে-রাতে নির্দিষ্ট সময়ে হয়।
৪. সাইনাস হেডেক
-
নাক ও কপালের সাইনাসে প্রদাহ হলে হয়।
-
সর্দি, হাঁচি, কাশির সাথে থাকে।
৫. ক্রনিক ডেইলি হেডেক
-
প্রতিদিনই হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা হয়।
-
হরমোন পরিবর্তনের কারণে মেয়েদের বেশি হয়।
৬. সেক্সুয়েল হেডেক
-
মিলনের সময় বা পরে হয়।
-
সাধারণত দ্রুত সেরে যায়, তবে হঠাৎ তীব্র হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
৭. সাইকোজেনিক হেডেক
-
মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার কারণে হয়।
-
চিকিৎসার জন্য সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং প্রয়োজন।
মাথা ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা
👉 ঔষধ সেবনের আগে কিছু প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায় চেষ্টা করতে পারেন:
-
ম্যাসাজ – রগ ও ঘাড়ে আঙুলের ডগা দিয়ে ম্যাসাজ করুন।
-
অল্প আলো – তীব্র আলো থেকে দূরে থাকুন।
-
স্ক্রিন টাইম কমানো – কম্পিউটার/মোবাইল কম ব্যবহার করুন।
-
অ্যাসেনশিয়াল অয়েল – ল্যাভেন্ডার/পিপারমিন্ট তেল ম্যাসাজ করুন।
-
চা ও কফি – ক্যাফেইন মাথা ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।
-
আদা – আদা চা বা কাঁচা আদা খেতে পারেন।
-
পানি পান – শরীর আর্দ্র রাখলে ব্যথা কমে।
-
লেবু পানি – গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে পান করুন।
-
লবঙ্গ – গরম লবঙ্গের ঘ্রাণ নিন।
-
মিষ্টি কুমড়োর বিচি – ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ, ব্যথা কমায়।
-
কাঠবাদাম – এতে থাকা স্যালিসিন ব্যথা উপশমে কার্যকর।
-
পান পাতা – কপালে পেস্ট লাগিয়ে রাখুন।
-
লবণযুক্ত আপেল – তীব্র ব্যথায় দ্রুত আরাম দেয়।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
-
মাথা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে।
-
হঠাৎ তীব্র ব্যথা, খিঁচুনি, বমি বা অজ্ঞান হলে।
-
নিয়মিত ওষুধ খেলেও উপশম না হলে।
এম এম এইচ আহমদ
মাদানী হোমিওপ্যাথিক ইন্টারন্যাশনাল
আরো পড়ুন….











