ল্যারিনজাইটিস (Laryngitis) কি?
ল্যারিনজাইটিস (Laryngitis) হলো গলার একটি প্রদাহজনিত সমস্যা, যেখানে গলার “ল্যারিংক্স” বা স্বরযন্ত্রে সংক্রমণ বা জ্বালা সৃষ্টি হয়। এর ফলে গলা ব্যথা, স্বর ভাঙা, বা সম্পূর্ণ স্বর হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ল্যারিংক্স হলো একটি পাইপের মতো গঠন, যা আমাদের স্বর উৎপাদনে সাহায্য করে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ধূমপান, অতিরিক্ত কথা বলা বা চিৎকার করার কারণে এই প্রদাহ হতে পারে।
ল্যারিনজাইটিসের সাধারণ লক্ষণসমূহ
ল্যারিনজাইটিস সাধারণত অল্প সময়ের জন্য হয়, তবে এর লক্ষণগুলো অস্বস্তিকর হতে পারে। প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
-
🔹 গলা ব্যথা ও জ্বালা
-
🔹 স্বর ভাঙা বা ক্ষীণ হওয়া
-
🔹 কথায় কষ্ট বা অস্পষ্ট উচ্চারণ
-
🔹 গলার শুষ্কতা ও চুলকানি
-
🔹 কাশি বা গলার খসখস ভাব
-
🔹 কখনও সামান্য জ্বর বা গলার ফোলাভাব
👉 যদি দীর্ঘদিন ধরে স্বর ভাঙা বা গলার ব্যথা না কমে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ল্যারিনজাইটিস হওয়ার কারণ
ল্যারিনজাইটিসের কারণ সাধারণত গলার ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। এছাড়াও কিছু জীবনযাপনগত কারণও দায়ী হতে পারে।
🔹 ভাইরাস সংক্রমণ:
সাধারণ সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস গলার প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
🔹 ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ:
কখনও ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন গলার ল্যারিংক্সে প্রদাহ ঘটায়।
🔹 ধূমপান ও ধোঁয়া:
তামাক ও ধোঁয়ার সংস্পর্শে গলার স্বরযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ল্যারিনজাইটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
🔹 অতিরিক্ত কথা বলা বা চিৎকার:
অতিরিক্ত চিৎকার, গান গাওয়া বা জোরে কথা বলার কারণে স্বরযন্ত্রে চাপ পড়ে, যা প্রদাহের কারণ হয়।
🔹 শুষ্ক পরিবেশ:
অতিরিক্ত শুষ্ক বাতাস গলার আর্দ্রতা নষ্ট করে, যা স্বরযন্ত্রের ক্ষতি করে।
ল্যারিনজাইটিস প্রতিরোধ ও ঘরোয়া প্রতিকার
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ল্যারিনজাইটিস স্বাভাবিকভাবে সেরে যায়। তবে নিচের সাবধানতাগুলো মানলে দ্রুত উপশম পাওয়া যায়:
-
💤 গলার বিশ্রাম দিন:
কম কথা বলুন, চিৎকার একেবারে পরিহার করুন। -
☕ গরম পানি বা লেবু মিশ্রিত চা পান করুন:
গলার ব্যথা ও জ্বালা প্রশমনে সাহায্য করে। -
🚭 ধূমপান থেকে বিরত থাকুন:
গলার প্রদাহ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। -
💧 পর্যাপ্ত পানি পান করুন:
শরীর ও গলার আর্দ্রতা বজায় রাখে। -
🌬️ বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ান:
রুমে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। -
🩺 প্রয়োজনে চিকিৎসা নিন:
যদি এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গলা ব্যথা বা স্বর হারানোর সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
নিম্নলিখিত অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিতঃ
-
গলার ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়
-
গিলতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়
-
গলায় ফোলাভাব বা ব্যথা বেড়ে যায়
-
কয়েকদিন পরেও স্বর ফিরে না আসে
উপসংহার
ল্যারিনজাইটিস (Laryngitis) সাধারণত অল্প সময়ের জন্য হয় এবং সহজ যত্নেই সেরে যায়। তবে নিয়মিত ধূমপান, অতিরিক্ত চিৎকার বা গলার সংক্রমণ হলে তা ক্রনিক (দীর্ঘমেয়াদি) আকার ধারণ করতে পারে। তাই গলার যত্ন নিন, যথাযথ বিশ্রাম ও চিকিৎসা নিন, এবং সুস্থ থাকুন।










