হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ কি?
হাইপারটেনশন হল একটি মেডিকেল শর্ত যেখানে রক্তনালীর বেড়ের ভেতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় অত্যাধিক চাপ পড়ে। যখন একজন ব্যক্তির সিস্টোলিক রক্তচাপ (রক্ত পাম্প করার সময় পড়া চাপ) 130 মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি এবং/অথবা ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ (রক্ত পাম্প না করার সময় পড়া চাপ) 80 মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি থাকে, তাহলে তাকে সাধারণত হাইপারটেনশনে আক্রান্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের লক্ষণগুলো:
মজার বিষয় হল, হাইপারটেনশন অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা দেয় না, যার ফলে একে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়ে থাকে। তবে, কিছু ব্যাক্তি যখন তাদের রক্তচাপ অত্যন্ত উচ্চ থাকে, তখন নিচের কিছু লক্ষণ অভিজ্ঞান করতে পারেন:
- মাথাব্যথা: প্রায়শই সকালের দিকে ব্যথা হতে পারে।
- নাক দিয়ে রক্ত পড়া: অতিরিক্ত চাপের কারণে নাকের রক্তনালী ভেঙে যাওয়া।
- অস্পষ্ট দৃষ্টি: রক্তচাপের চাপ চোখের রক্তনালীর উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
- দম বন্ধ ভাব: হার্টের উপর বাড়িয়ে চাপের কারণে দম নিতে সমস্যা হওয়া।
- তীব্র কানে শোঁ শোঁ শব্দ: কানের ভেতরের চাপ বৃদ্ধি।
- মাথা ঘোরা বা ঘোরাঘুরি: মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহে অসমতা।
- অস্থিরতা অনুভূতি: ব্যাক্তি অস্থির বা বিশৃঙ্খল বোধ করতে পারে।
এগুলি ছাড়াও, উচ্চতর মাত্রার হাইপারটেনশনে (হাইপারটেনিসিভ ক্রাইসিস) পেটের উপরিভাগে ব্যথা বা মনে চাপ অনুভূতি (এঙ্জাইনা) দেখা দিতে পারে যা হৃদ জনিত সমস্যার ইঙ্গিত করতে পারে।
যদিও এসব লক্ষণ অন্য অবস্থা বা সমস্যার জন্যও ঘটতে পারে, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য পেশাদারের সাথে আলোচনা করা জরুরী যাতে সময় মতো চিকিৎসা করা যায়।
হাইপারটেনশনের প্রভাব:
- হৃদরোগ: হাইপারটেনশন হৃদপিণ্ডের কাজের উপর চাপ ফেলে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
- মস্তিষ্কের রক্তাল্পতা: রক্তজাল (রক্তবাহী ধমনী) পরিবর্তন হওয়ার ফলে স্ট্রোক হতে পারে।
- কিডনি রোগ: রক্তচাপের অতিরিক্ত চাপ কিডনির রক্তনালীর ক্ষতি করতে পারে।
প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:
- সুষম খাদ্যাভাস: লবণ ও চর্বির পরিমাণ কমিয়ে দিলে হাইপারটেনশনের ঝুঁকি কমে।
- ব্যায়াম: নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
- মদ্যপান ও ধূমপান ত্যাগ: এগুলি হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বাড়ায়।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ: স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা উচিত।
- নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা: হাইপারটেনশন প্রায়ই ‘মৌন ঘাতক’ হিসেবে পরিচিত, কারণ এটি খুব কমই লক্ষণ দেখায়।
হাইপারটেনশনের নির্ণয়ের জন্য এবং এর চিকিৎসার জন্য, স্বাস্থ্য পেশাদারের পরামর্শ নেওয়া খুব জরুরি।










