হ্যালিটোসিস (Halitosis): মুখে দুর্গন্ধ কী?
মুখে দুর্গন্ধ বা হ্যালিটোসিস হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে মুখ থেকে অপ্রীতিকর গন্ধ বের হয়। এটি শুধু শারীরিক সমস্যাই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, সামাজিক সম্পর্ক এবং পেশাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দুর্গন্ধের প্রধান কারণ
- অপর্যাপ্ত মুখের স্বাস্থ্য: ব্রাশ ও ফ্লস না করলে খাদ্যকণা ও প্লাক জমে দুর্গন্ধ হয়।
- গুণ্ডুমালা বা টনসিল ইনফেকশন: গলার পিছনে ইনফেকশন দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
- দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগ: দাঁতের গর্ত, পেরিয়োডন্টাইটিস ইত্যাদি মুখে দুর্গন্ধের উৎস।
- শুকনো মুখ: লালা কম উৎপাদন হলে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়।
- খাদ্যাভ্যাস: পেঁয়াজ, রসুন ও দুধজাত খাবার দুর্গন্ধ বাড়ায়।
- ধূমপান ও তামাক: মুখের দুর্গন্ধের অন্যতম প্রধান কারণ।
- সিস্টেমিক রোগাবলী: ডায়াবেটিস, কিডনি, যকৃতের সমস্যা ও GERD থেকেও দুর্গন্ধ হতে পারে।
- মেডিকেশন: কিছু ওষুধ মুখ শুকিয়ে দেয়, ফলে দুর্গন্ধ হয়।
- অপর্যাপ্ত পানি পান: শরীর ডিহাইড্রেট হলে মুখে দুর্গন্ধ দেখা দেয়।
মুখে দুর্গন্ধ দূর করার উপায়
- দিনে অন্তত দুইবার ব্রাশ ও ফ্লস করুন।
- নিয়মিত দাঁতের চেকআপ করুন।
- প্রচুর পানি পান করুন।
- ধূমপান ও তামাক সেবন বন্ধ করুন।
- অতিরিক্ত গন্ধযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
মুখে দুর্গন্ধের ঘরোয়া সমাধান
- জিহ্বা পরিষ্কার করুন: ব্যাকটেরিয়া জমে দুর্গন্ধ হয়।
- পানি দিয়ে কুলি করুন: দিনে বহুবার কুলি করলে ব্যাকটেরিয়া কমে।
- খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন: পেঁয়াজ, রসুন এড়িয়ে চলুন।
- প্রাকৃতিক মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন: লবণ পানি, টি-ট্রি অয়েল বা পেপারমিন্ট অয়েল।
- গ্রিন টি বা নিম পাতার চা পান করুন।
- ফল ও শাকসবজি খান: আপেল, গাজর, সেলারি দাঁত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
- দই পান করুন: প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া মুখের স্বাস্থ্য উন্নত করে।
- অয়েল পুলিং করুন: নারকেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে ব্যাকটেরিয়া কমে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
যদি নিয়মিত যত্ন ও ঘরোয়া সমাধানেও মুখের দুর্গন্ধ না কমে, তবে একজন ডেন্টিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আরো পড়ুন











