ভূমিকা
ব্রংকিওলাইটিস একটি সাধারণ কিন্তু গুরুতর শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগ, যা প্রধানত দুই বছরের নিচে শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। এটি শ্বাসনালীর ছোট শাখা ব্রংকিওলস-এ প্রদাহ ও সংক্রমণের কারণে হয়। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস (RSV), তবে ইনফ্লুয়েঞ্জা, প্যারাইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যাডেনোভাইরাস ও রাইনোভাইরাসও দায়ী হতে পারে।
ব্রংকিওলাইটিসের লক্ষণ
- শ্বাসকষ্ট
- খাঁকি
- জ্বর
- খাওয়ায় অনীহা
- সাধারণ সর্দি-কাশির উপসর্গ
ব্রংকিওলাইটিস কীভাবে ছড়ায়
- সরাসরি সংস্পর্শে (কাশি/হাঁচি)
- বায়ুবাহিত বিন্দুতে
- ময়লা হাত থেকে
- সংক্রমিত বস্তু বা খেলনা থেকে
নির্ণয় পদ্ধতি
- চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষা
- ব্রংকোস্কোপি
- ব্লাড টেস্ট, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান
- স্পীরোমেট্রি ও অন্যান্য ল্যাব টেস্ট
চিকিৎসা ও যত্ন
- চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা
- নিয়মিত চিকিৎসা ও ঔষধ গ্রহণ
- স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া
- ধূমপান এড়িয়ে চলা
- হাত-মুখ পরিষ্কার রাখা
- নতুন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ
প্রতিরোধ ও ঝুঁকি নির্মূল
- চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা
- ভাইরাস সংক্রমণ এড়ানো
- ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান থেকে বিরত থাকা
- অ্যালার্জি জনিত উপাদান এড়িয়ে চলা
- পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
উপসংহার
ব্রংকিওলাইটিস শিশুদের জন্য একটি গুরুতর শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ, পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ভাইরাসজনিত এই রোগ সাধারণত স্বল্প সময়ে সেরে যায়, তবে জটিলতা এড়াতে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি। শিশুর শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা খাওয়ায় অনীহা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। নিয়মিত হাত ধোয়া, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা ব্রংকিওলাইটিস প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আরো পড়ুন
ফুসফুস: মানবদেহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাণীর ফুসফুসের গঠন ও কাজ












