ভূমিকা
বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে প্রায় দুই দশক আগে। তবুও প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ের স্ক্রিনিং সেবা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সরকারের কাছে সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তাই আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, প্রতি আটজন নারীর মধ্যে একজন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।
বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সারের বর্তমান চিত্র
২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে ২২ লাখের বেশি নারী নতুন করে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার নারী মারা যান।
বাংলাদেশে একই বছরে ১৩ হাজার নারী আক্রান্ত হন। ৬,৭৮৩ জন মৃত্যুবরণ করেন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৩৬ জন নারী আক্রান্ত হন এবং ১৯ জন মারা যান।
সচেতনতা কর্মসূচি ও বার্তা
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার ফোরাম ও ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। তারা সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন— “মানুষ এখন তথ্য জানছে। কিন্তু প্রতিরোধ ও স্ক্রিনিংয়ে তৎপর নয়। তাই এবারের প্রতিপাদ্য— ‘জানা, জেগে ওঠা’। অর্থাৎ সচেতন হয়ে স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসার আহ্বান।”
অক্টোবর মাসজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি হবে। ঢাকা-রাজশাহী-খুলনা গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা তার মধ্যে অন্যতম।
স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে—
- স্তনে নতুন কোনো চাকা বা লাম্প অনুভব করা।
- স্তনের আকার বা আকৃতিতে পরিবর্তন।
- ত্বক ফ্যাকাশে, লালচে বা ফুলে যাওয়া।
- স্তনবৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক তরল নিঃসরণ।
- বগলে চাকা বা ফোলা দেখা দেওয়া।
প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধের ধাপ
প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে স্তন ক্যান্সার থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।
- ২০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীরা মাসে একবার নিজের স্তন পরীক্ষা করবেন।
- ২৯–৩৯ বছর বয়সীরা প্রতি ১–৩ বছরে একবার চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন।
- ৪০ বছরের বেশি নারীরা প্রতি বছর ম্যামোগ্রামসহ পূর্ণ পরীক্ষা করাবেন।
সামাজিক লজ্জা ও সচেতনতার অভাব
বাংলাদেশে অনেক নারী সামাজিক লজ্জা, ভয় বা অজ্ঞানতার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিতে চান না। এর ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করে।
ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবির বলেন— “আগে স্তন ক্যান্সার ছিল মারণব্যাধি। এখন তা নয়। পর্যাপ্ত চিকিৎসা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সচেতনতা ও সময়মতো পরীক্ষা।”
উপসংহার
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধযোগ্য এবং নিরাময়যোগ্য। প্রয়োজন সচেতনতা, সাহস ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
আরো পড়ুন
-
নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক আরও পড়ুন
-
ক্যান্সার প্রতিরোধে জীবনধারার পরিবর্তন












