ভূমিকা
স্ট্রেপ থ্রোট (স্ট্রেপ টনসিলিটিস) হলো গলার একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। যা গ্রুপ A স্ট্রেপ্টোকক্কাস (Streptococcus pyogenes) দ্বারা হয়। এটি শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।
স্ট্রেপ থ্রোটের লক্ষণ
এই রোগের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো:
- আকস্মিক গলা ব্যথা, বিশেষ করে গিলতে গেলে
- গলা লাল হওয়া ও টনসিল ফুলে যাওয়া
- গলার পিছনে সাদা বা দুধের মতো স্পট
- জ্বর (সাধারণত 38°C বা 101°F এর বেশি)
- ঘাড়ের লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া ও ব্যথা
- মাথাব্যথা
- শিশুদের ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব
👉 এই লক্ষণগুলো অন্য ইনফেকশনেও দেখা যেতে পারে, তাই সঠিক ডায়াগনোসিসের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
সংক্রমণের কারণ
স্ট্রেপ থ্রোট মূলত Streptococcus pyogenes ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এটি ছড়ায়:
- কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ফোঁটা ছড়িয়ে
- সংক্রামিত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে
- আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র ভাগ করে
- দূষিত জায়গায় স্পর্শ করার মাধ্যমে
চিকিৎসা
স্ট্রেপ টনসিলিটিসের মূল চিকিৎসা হলো অ্যান্টিবায়োটিক। তবে উপসর্গ কমাতে কিছু ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে:
- প্রচুর তরল পান করা
- গরম লবণ পানি দিয়ে গরারা করা
- স্টিম ইনহেলেশন
- মধু ও লেবুর পানি
- ঠাণ্ডা খাবার বা আইসক্রিম
- নরম খাবার যেমন স্যুপ, ম্যাশড আলু
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম
- ভিটামিন C ও জিঙ্ক গ্রহণ
👉 মনে রাখবেন, এগুলো শুধু উপসর্গ কমায়। মূল চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
কিছু প্রচলিত হোমিও ওষুধ:
- Belladonna – আকস্মিক গলা ব্যথা ও লাল গলার জন্য
- Hepar sulph – ঠাণ্ডা পানি পান করলে ব্যথা বাড়ে
- Mercurius solubilis – তীব্র গলা ব্যথা ও মুখে দুর্গন্ধ
- Phytolacca – টনসিলে লালচে দাগ
- Apis mellifica – ফুলে যাওয়া গলা ও ব্যথা
👉 হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা অবশ্যই লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসকের পরামর্শে নিতে হবে। নিজে নিজে ওষুধ গ্রহণ করা বিপজ্জনক হতে পারে।
উপসংহার
স্ট্রেপ থ্রোট একটি গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে এটি রিউম্যাটিক ফিভার বা অন্যান্য জটিল রোগে রূপ নিতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।










