ভূমিকা
Canker sores, যাকে মেডিকেল পরিভাষায় Aphthous ulcers বলা হয়, হল মুখের ভেতরের ত্বকে হওয়া ছোট, গভীর, বেদানার মতো ঘা। এগুলো সাধারণত গোলাকার বা ওভাল ও হলুদ বা ধূসর কেন্দ্রের সাথে লাল প্রান্ত দেখা যায়। এই রোগ প্রধানত জিহ্বা, ঠোটের ভেতরের অংশ, মুখের তলা অথবা গালের ভেতরে হয়ে থাকে।
Canker Sores কেন হয়?
ক্যাংকার সোর এর সঠিক কারণ অজানা হলেও এর সম্ভাব্য কারণগুলি হল:
- ভিটামিন বা খনিজের অভাব, যেমন বি-ভিটামিন, জিংক, ফলিক অ্যাসিড, এবং আয়রন।
- ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
- মুখের আঘাত বা ট্রমা, যেমন ব্রাশ করার সময় জোরে ঘষা বা কঠিন খাবারে আঘাত।
- খাবারের অ্যালার্জি বা অসহিষ্ণুতা।
- হরমোনাল পরিবর্তন অথবা মাসিক চক্র।
- স্ট্রেস বা মানসিক চাপ।
- ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্য, যেমন টুথপেস্ট বা মাউথওয়াশে উপস্থিত সোডিয়াম লরিল সালফেট।
চিকিৎসা কি?
বেশিরভাগ ক্যাংকার সোর নিজ থেকেই সেরে যায় ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে। তবে এগুলোর উপশম ও নিরাময়ের জন্য নিম্নোক্ত চিকিৎসাগুলি অনুসরণ করা হতে পারে:
- ব্যথা উপশম: ওভার-দ্য কাউন্টার ব্যথানাশক ওষুধ যেমন ইবুপ্রোফেন বা অ্যাসিটামিনোফেন।
- টপিক্যাল মেডিকেটেড জেল বা পেস্ট: এগুলি স্থানীয় উপায়ে ব্যথা ও প্রদাহ কমায়।
- অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশ: মুখকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ইনফেকশন প্রতিরোধ করে।
- নরম বা মাইল্ড খাবার: তীক্ষ্ণ, গরম, বা অ্যাসিডিক খাবার এড়িয়ে চলা।
- পুষ্টি সম্পূরক: পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন ও খনিজের সাপ্লিমেন্ট নেওয়া।
যদি ক্যাংকার সোর বারবার হয়ে থাকে বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে একজন ডেন্টিস্ট বা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত, কারণ এটি অন্যান্য আরও গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক অবস্থার ইঙ্গিত হতে পারে।
হোমিও চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথি একটি বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতি যা সূক্ষ্ম-মাত্রায় তৈরি ওষুধের মাধ্যমে রোগ নিরাময়ে বিশ্বাস করে, এবং এতে ‘সদৃশ সমন্বয়ের নীতি’ বা “like cures like” নীতিটি অনুসৃত হয়। ক্যাংকার সোর বা অ্যাফটাস আলসারের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় নিচে কিছু হোমিওপ্যাথিক ড্রাগ এর নাম দেওয়া হল যা ব্যবহার করা হয়ে থাকে:
- Mercurius Solubilis: মুখের ঘা অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলে এবং লালার পরিমাণ বেশি হলে এটি ব্যবহার করা হয়।
- Borax: মুখের ভেতরে তীব্র ব্যথা এবং খাবার বা গরম পানীয় যখন কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে এমন অবস্থায় প্রযোজ্য।
- Hydrastis: যদি ক্যাংকার সোর এর সাথে মুখের মেমব্রেনে শুষ্ক এবং পাতলা গঠনের সমস্যা থাকে।
- Nux Vomica: যদি অ্যালকোহল, কফি, বা উত্তেজনাজনিত খাবারের ফলে ক্যাংকার সোর হয়।
- Calendula: স্থানীয় প্রয়োগের জন্য উপকারী, এটি নিরাময় এবং প্রদাহ হ্রাসের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- Arsenicum Album: যদি ক্যাংকার সোর থেকে জ্বলন সহ ব্যথা হয় এবং ঠাণ্ডা জল পান করলে আরাম পায়।
বিঃদ্রঃ ক্যাংকার সোরএর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার জন্য কোনো হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নির্বাচনের আগে অবশ্যই একজন প্রশিক্ষিত হোমিওপ্যাথের পরামর্শ নিন। নিয়মিত চিকিৎসা অভ্যাস ও কিছু ক্ষেত্রে মেডিকেল ডায়াগনোসিসের প্রয়োজন হতে পারে।
ভেষজ চিকিৎসা
ক্যাংকার সোর এর জন্য ভেষজ চিকিৎসা বা প্রাকৃতিক উপায়ে উপশম ও নিরাময়ের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রচলিত আছে। নিচে কিছু লোকপ্রিয় এবং সাধারণত নিরাপদ ভেষজ চিকিৎসার উপায় দেওয়া হল:
- মধু: মধুর উপর গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে এটি ক্ষতের পুনরুৎপাদন এবং ইনফ্ল্যামেশন হ্রাসে সাহায্য করে। মধুকে সরাসরি আলসারের উপর প্রয়োগ করার মাধ্যমে এর উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে।
- নারকেল তেল: এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণাবলীর জন্য ক্যাঙ্কার সোরসের উপর নারকেল তেল প্রয়োগ করা যেতে পারে।
- তুলসী: তুলসী পাতাগুলি চিবিয়ে খেলে বা তুলসী পাতার রস প্রয়োগ করলে এটি উপশম এবং নিরাময়ে সাহায্য করে।
- এলোভেরা: এলোভেরা রস বা জেল এর সুখানুভূতি দানকারী এবং প্রদাহ রোধক গুণাবলীর জন্য জনপ্রিয়। এলোভেরা জেল আলসারের উপর প্রয়োগ করে উপশম পাওয়া যায়।
- হলুদ: হলুদের অ্যান্টিসেপটিক গুণাবলী আছে, যার জন্য হলুদ পাউডার সরাসরি আলসারের উপর লাগালে কার্যকরী হতে পারে।
- চ্যামোমাইল টি: চ্যামোমাইল চা ব্যাগ ক্যাঙ্কার সোরসের উপর রেখে কিছুক্ষনের জন্য রাখলে এটি শান্তিপ্রদ এবং প্রদাহ হ্রাসকারী হিসেবে কাজ করে।
- আদা: আদার তৈরি ফ্রেশ পেস্ট বা রস ক্যাঙ্কার সোরসের উপর প্রয়োগ করলে এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।
আগের উল্লেখিত প্রতিকারগুলি আপনার ক্যাংকার সোরকে কমিয়ে আনতে এবং তার আরাম দান করতে সাহায্য করবে। তবে, যদি আপনার ক্যাংকার সোর গুরুতর হয় বা বারবার হয়, বা যদি আপনার অন্য কোন স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ থাকে, তাহলে সঠিক চিকিৎসার পরামর্শের জন্য একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।











