ভূমিকা
অ্যাজমা হলো শিশুদের মধ্যে একটি প্রচলিত শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা। শ্বাসনালীর প্রদাহ ও সংকোচনের কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এর ফলে কাশি, শ্বাসকষ্ট, শিসনিঃসৃত শব্দ এবং বুকে চাপের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। সঠিক সময়ে সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা করলে শিশুরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।
শিশুদের অ্যাজমার প্রধান উপসর্গ
- কাশি: রাতে বা সকালে বেশি হয়, শুষ্ক বা কফসহ হতে পারে।
- শ্বাসকষ্ট: হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বিশেষ করে ব্যায়ামের সময়।
- বুকে চাপ: বুক সংকীর্ণ হয়ে আসার অনুভূতি।
- শিসনিঃসৃত শব্দ (হুইজিং): শ্বাস নেওয়া বা ছাড়ার সময় শিসের মতো শব্দ।
- ক্লান্তি: শ্বাসকষ্টের কারণে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায়।
- ক্রমাগত চেষ্টা: গলা ও বুকের মাংসপেশী ব্যবহার করে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা।
- রাতের উপসর্গ বৃদ্ধি: রাতে বা ভোরে উপসর্গ বেশি হয়।
নিয়ন্ত্রণের উপায়
- ট্রিগার এড়ানো: ধূলা, ধূমপান, পোষা প্রাণীর লোম ও ছাঁচ থেকে দূরে রাখা।
- নিয়মিত মেডিকেশন: ইনহেলার ও অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার।
- পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ: শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
- নিয়মিত পরীক্ষা: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলো-আপ।
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
- ইতিহাস অনুসন্ধান: পারিবারিক ও উপসর্গের ইতিহাস।
- শারীরিক পরীক্ষা: শ্বাসপ্রশ্বাসের ফাংশন টেস্ট (স্পিরোমেট্রি)।
- এলার্জি পরীক্ষা: স্কিন টেস্ট বা রক্ত পরীক্ষা।
- চিত্রায়ণ পরীক্ষা: চেস্ট এক্স-রে বা অন্যান্য ইমেজিং।
- ফাংশনাল পরীক্ষা: পিক ফ্লো মিটারিং।
- উপসর্গের ডাইরি: উপসর্গের প্যাটার্ন ট্র্যাক করা।
উপসংহার
শিশুদের অ্যাজমা সঠিকভাবে সনাক্ত ও চিকিৎসা করলে তারা একটি স্বাভাবিক ও সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারে। অভিভাবকদের উচিত উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।












