ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন
উরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই একটি সাধারণ রোগ। তবে সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই কাকে বলে?
ইউরিনারি ট্র্যাক্ট এর অর্থ হলো, যে রাস্তা দিয়ে পেশাব বের হয়। আমরা জানি যে, কিডনি পেশাব তৈরি করে। তার পর কিডনি থেকে ইউরেটার পাইপ দিয়ে পেশাবটা ইউরিনারি ব্লাডারে আসে। তারপর প্রস্রাব ইউরিথ্রা দিয়ে বের হয়। এই পুরো জায়গাটা, অর্থাৎ ইউরেটার থেকে শুরু করে ইউরিথ্রা পর্যন্ত এই পুরো ট্র্যাক্টকে ইউরিন ট্র্যাক্ট বলে। আর এই জায়গাটার কোনো অংশে যদি সংক্রমণ হয়, তাকে ইউরিন ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বলা হয়।
ইউটিআইতে আক্রান্ত হওয়ার কারণ
ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এর কারণে ইউটিআই রোগে আক্রান্ত হয় । এছারও আরো কিছু কারণে মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। যথা:
-
যৌনমিলন,
-
বহুমূত্ররোগ,
-
অতিস্থুলতা,
-
বংশগত কারণ।
এটি যৌনবাহিত কোন রোগ নয়, যদিও মূত্রনালির সংক্রমণ যৌনমিলন কারণে অনেক বেশি ঝুঁকি থাকে।
পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা
এ রোগ থেকে বাচতে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা খুব জরুরী বিষয়। ইসলামে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নাতার ব্যপারে খুব গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে পেশাব করার পর পরিস্কার হওয়ার ব্যপারে। যাকে ইসলামি পরিভাষায় ইস্তেঞ্জা বলে। পরিষ্কারের বিষয়টি ভালোভাবে মেনে চলতে হবে। আর মেয়েরা ইউরিন ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে আক্রান্ত খুব বেশি হয। কারণ হচ্ছে মেয়েদের পায়খানার রাস্তা এবং পেশাবের রাস্তাটা খুব কাছাকাছি অবস্থিত, তাই এই রোগে আক্রান্ত বেশি হয়। মেয়েদের আরেকটি কারণ হচ্ছে, মেয়েরা দীর্ঘ সময় পেশাব ধরে রাখে। তারা বাইরে গেল তখন প্রস্রাবের কোনো ভালো জায়গা পায় না। ইত্যাদি কারণে পেশাব করতে পরেনা। এই জন্য তারা এই রোগে আক্রান্ত বেশি হয়।
পর্যাপ্ত পানি পান
কিছু কিছু কিডনি রোগের ক্ষেত্রে পানি কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আবার কিছু কিডনি রোগে পানি বেশি খেতে বলা হয়। কোন ডিকনি রোগী যদি ইউরিন ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়। তাদেরকে পানি বেশি খেতে বলা হয়, যাতে পেশাব বেশি করে। এর ফলে ব্যাকটেরিয়াগুলো বের হয়ে যায়।
ইউটিআই এর লক্ষণ :
-
পেশাবে জ্বালাপোড়া হওয়া।
-
কখনো লাল পেশাব হওয়া।
-
পেশাবের সাথে রক্ত যাওয়া।
-
সাথে জ্বর শুরু হতে পারে।
উপরের একাধিক লক্ষণসহ ভীষণ কাঁপুনি দিয়ে এই জ্বর আসবে। এই লক্ষণ যদি কারো ক্ষেত্রে হয়, তাহলে ধরেই নিতে হবে এটা ইউটিআই।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে কি করনিয়:
এধরনের লক্ষণ যখন দেখা দিবে। একজন বিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডাক্তার কিছু পরিক্ষা দিতে পারেন। যেমন: পেশাব পরীক্ষা এবং কালচার সেনসিটিভিটি । কালচার মানে হলো, ব্যাকটেরিয়াকে কালচার করে দেখা যায় কোন ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে রোগী আক্রান্ত হয়েছেন। পাশাপাশি সেনসিটিভিটি বা স্পর্শকাতরতা পরীক্ষা করে। আর সেনসিটিভিটির মাধ্যমে দেখে, কোন ওষুধ এখানে কাজ করবে। ইউটিআই আসলে খুব সাধারণ অসুখ। তবে সময়মতো যদি চিকিৎসা না নেওয়া হয়। তাহলে এর থেকে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।
ইউটিআই এমন একটি বিষয়, দুদিন ওষুধ খেলে দেখবেন তার কোনো লক্ষণ থাকবে না। তখনই অনেক সময় সে ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে যখন তার ইউটিআই হবে দেখা যাবে, তখন সে ঔষধ আর কাজ করছে না। এর কারণ হলো আমরা যত্রতত্র ঔষধ ব্যবহার করি এবং সময়মতো করে না। একটু আরাম পেলে বন্ধ করে। আবার রোগ দেখা দিলে ঔষধ সেবন করে। কোন কোর্স পরিপূর্ণ করে না। সে জন্য ওষুধ আর কাজ করে না।
পরিপূর্ণ চিকিৎসা না নেওয়ার কুফল
ক্রনিক কিডনি রোগের একটি বড় কারণ হলো, বার বার ইউরিন ট্র্যাক্ট ইনফেকশন হওয়া। ইউরিন ট্র্যাক্ট ইনফেকশন যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়, সেখান থেকে কিডনি অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। একবার যদি এমন অবস্থা হয়ে যায়, তাহলে সে শেষ পর্যায়ে চলে যাবে, ডায়ালাইসিস লাগবে। কাজেই এই রোগ সাধারণ মনে হলেও ইউটিআই সাধারণ রোগ নয়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় চলে যায়।
ইউটিআই প্রতিরোধ:
পেশাব বেশিক্ষণ ধরে রাখা যাবে না। ঠিকমতো পেশাব করতে হবে। কখনো যদি এই রোগের চিকৎসা করলে, পরিপূর্ণ চিকিৎসা করতে হবে। সঠিক ঔষধ সেবন এবং কোর্স পূর্ণ করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
রমযানে পর্যাপ্ত পানি পানের ধরন
সারা দিন রোজা থাকার কারণে পানি পান করতে পারেনা। রোজার সময় পানি পানের চাহিদাটা বেড়ে যায়। তাই ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত ভালোভাবে পানি পান করতে হবে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের গড়ে দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করতে হবে।
কিডনি রোগী যতটুকু পেশাব করবে তার থেকে আধা লিটার বেশি পানি পান করবে। অথবা চিকিৎসকের পরামর্শমতো পানি পান করবে।
এম এম এইচ আহমদ
মাদানী হোমিওপ্যাথিক ইন্টারন্যাশনাল
আরো পড়ুন











