গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রতিকার
গর্ভাবস্থায় নারীরা নানা স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হন। এর মধ্যে একটি হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অনেকেই এ সমস্যায় ভোগেন, যা পেটের ব্যথা, অস্বস্তি ও ঝুঁকি তৈরি করে। তবে কিছু সতর্কতা ও ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে সহজেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
🥛 দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার
- দুধ ও দুধজাতীয় খাবার যেমন দধি, পায়েশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
- যারা দুধ খেতে পারেন না, তারা বিকল্প হিসেবে দুগ্ধজাতীয় খাবার গ্রহণ করতে পারেন।
🥦 আঁশযুক্ত খাবার
- শাকসবজি ও ফলমূল মল নরম করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
- লালশাক, পালংশাক, লাউশাক, গাজর, আলু, আঙুর, আপেল, কমলা, বেদানা, কলা খাওয়া উপকারী।
- তবে গর্ভাবস্থায় পেঁপে এড়িয়ে চলা উচিত।
🚶♀️ হালকা ব্যায়াম
- নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস ও ফিস্টুলার ঝুঁকি কমে।
- অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বিশেষ কিছু হালকা ব্যায়াম রয়েছে যা নিরাপদ।
🌰 দানাদার খাবার
- বাদাম ও বিচিজাতীয় খাবারে প্রচুর আঁশ থাকে।
- এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর পাশাপাশি শিশুর পুষ্টি যোগায়।
💧 তরল খাবার
- পর্যাপ্ত পানি ও শরবত পান করলে মল নরম হয়।
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে কয়েক দিনের মধ্যেই ভালো ফল পাওয়া যায়।
🌿 ইসবগুল
- ইসবগুল খেলে মল নরম হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
- গর্ভাবস্থায় নিরাপদে এটি গ্রহণ করা যায়।
🍋 লেবু পানি
- লেবু পানি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কার্যকর।
- এতে থাকা ভিটামিন-সি শিশুর বৃদ্ধিতেও সহায়ক।
- এক গ্লাস গরম পানিতে লেবুর রস ও সামান্য মধু মিশিয়ে দিনে দুবার পান করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
উপসংহার
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা হলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান ও হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। দুধ, আঁশযুক্ত খাবার, ইসবগুল ও লেবু পানি অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর প্রতিকার।
আরো পড়ুন……
গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড পরীক্ষা কেন জরুরি









