🦠 টনসিলাইটিস (Tonsillitis): কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
ছোট-বড় প্রায় সবাই কখনও না কখনও টনসিলের সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে টনসিলের ইনফেকশন বা প্রদাহ বেশি হয়। এই টনসিলের ইনফেকশনকেই টনসিলাইটিস (Tonsillitis) বলা হয়।
🔍 টনসিল কী?
জিহ্বার গোড়ায়, আলজিহ্বার নিচে দুই পাশে লালচে রঙের মাংসপিণ্ডকে টনসিল (Tonsil) বলা হয়। প্রায় ১.৫ সেন্টিমিটার আকারের এই টনসিল আসলে লিম্ফয়েড টিস্যু, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ।
👉 টনসিলের মূল কাজ হলো নাক, মুখ বা সাইনাস হয়ে আসা জীবাণু পেটে ঢুকতে বাধা দেওয়া এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করা।
⚡ টনসিলাইটিস কীভাবে হয়?
যখন টনসিল ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে, তখন সেটিকে টনসিলাইটিস বলা হয়।
শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায় কারণ তাদের টনসিল তুলনামূলকভাবে বড় থাকে।
সাধারণত টনসিলাইটিস দুই ধরনের হয়:
-
তীব্র বা একিউট টনসিলাইটিস (Acute Tonsillitis)
-
দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক টনসিলাইটিস (Chronic Tonsillitis)
🌧️ টনসিলের প্রদাহ কবে বেশি হয়?
বর্ষাকাল ও শীতকালে টনসিলের প্রদাহ বেশি দেখা যায়। শীতকালে ভাইরাস সংক্রমণের প্রবণতা বেশি থাকে, বিশেষ করে যাদের ইমিউনিটি কম তাদের মধ্যে এটি বেশি হয়।
⚠️ একিউট টনসিলাইটিসের লক্ষণ
✅ ঠাণ্ডা ও সর্দি
✅ জ্বর ও কাঁপুনি
✅ গলাব্যথা ও কাশি
✅ খাবার বা পানি গিলতে কষ্ট
✅ নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা
✅ টনসিল লালচে ও ফুলে যাওয়া
✅ টনসিলের ওপর হলুদ/সাদা আস্তরণ
✅ গলার লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া
✅ গলায় ও মাড়িতে ব্যথা
🕐 ক্রনিক টনসিলাইটিসের লক্ষণ
-
ঘ্রাণের সমস্যা বা বাজে গন্ধ পাওয়া
-
ঘুমাতে অসুবিধা ও নাক ডাকা
-
ঘুমের ধরনে পরিবর্তন
-
মাথাব্যথা, গলায় ঘা বা ব্যথা
-
কানে ব্যথা, ক্লান্তি, লালা জমে থাকা
-
মুখ হাঁ করতে অসুবিধা
-
মুখ থেকে দুর্গন্ধ
-
কণ্ঠস্বর ভারি হয়ে যাওয়া
শিশুদের ক্ষেত্রে বমি, পেটে ব্যথা বা খাওয়ার অরুচিও দেখা যায়।
💊 টনসিলের চিকিৎসা
টনসিলাইটিসের চিকিৎসা মূলত দুইভাবে করা যায়:
1️⃣ ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা
-
হোমিওপ্যাথি বা অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসায় প্রদাহ ও সংক্রমণ কমানো হয়।
2️⃣ অস্ত্রোপচার (Tonsillectomy)
-
বারবার সংক্রমণ হলে বা শ্বাসকষ্ট হলে টনসিল অপসারণ করা হয়।
🌿 টনসিলের ঘরোয়া চিকিৎসা
🍵 ১. আদা চা
দেড় কাপ পানিতে এক চামচ আদার কুচি ও চা পাতা দিয়ে ১০ মিনিট ফুটিয়ে পান করুন।
👉 আদায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান আছে যা সংক্রমণ রোধে কার্যকর।
🧂 ২. লবণ পানি দিয়ে গার্গেল
কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে গার্গেল করুন।
👉 এটি গলার ব্যথা কমায় ও জীবাণু ধ্বংস করে।
🍋 ৩. লেবু, মধু ও নুন মিশ্রণ
এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চামচ লেবুর রস, ১ চামচ মধু ও আধা চামচ নুন মিশিয়ে পান করুন।
👉 এটি গলার প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে দারুণ কার্যকর।
🥛 ৪. হলুদ দুধ
এক কাপ গরম দুধে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে রাতে পান করুন।
👉 হলুদে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান টনসিলের প্রদাহ কমায়।
🍯 ৫. গ্রিন-টি ও মধু
এক কাপ গরম পানিতে গ্রিন-টি ও এক চামচ মধু মিশিয়ে দিনে ৩-৪ বার পান করুন।
👉 এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জীবাণু ধ্বংস করে গলা শান্ত রাখে।
🧕 উপসংহার
টনসিলাইটিস সাধারণ হলেও অবহেলা করলে এটি জটিল রূপ নিতে পারে। সঠিক চিকিৎসা ও ঘরোয়া যত্নে এটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
গলাব্যথা, গন্ধ, বা শ্বাসকষ্ট দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
✍️ লেখক: এম এম এইচ আহমদ
মাদানী হোমিওপ্যাথিক ইন্টারন্যাশনাল
আরো পড়ুন









