ব্রেস্ট ক্যান্সার
স্তন ক্যান্সার নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১৫ হাজার নারী ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় নিরাময়ের সম্ভাবনা প্রায় ১০০%। তাই সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণ
- ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
- জেনেটিক পরিবর্তন ও বংশগত কারণ
- অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যাওয়া
- বেশি বয়সে সন্তান ধারণ
- সন্তানদের দুধপান না করানো
- বন্ধ্যাত্ব
- চর্বিযুক্ত ও প্রসেস খাবার খাওয়া
- অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস
- অ্যালকোহল ও ধূমপান
- শরীরচর্চার অভাব
ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ
- স্তনে পিণ্ড বা চাকা
- স্তনের বোঁটায় ক্ষত বা ঘা
- বোঁটা থেকে অস্বাভাবিক রস নির্গত হওয়া
- স্তনের চামড়ার রঙ পরিবর্তন
- বাহুমূলে চাকা বা পিণ্ড
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
- স্তনে চাকা বা পিণ্ড দেখা দিলে
- বোঁটার আকৃতি পরিবর্তন হলে
- অস্বাভাবিক রস নির্গত হলে
- স্তনের চামড়ায় পরিবর্তন হলে
- বাহুমূলে চাকা হলে
👉 বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৩০–৩৫ বছর বয়সের পর নারীদের নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করা উচিত। পরীক্ষার পদ্ধতি:
- ম্যামোগ্রাম
- চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা
- নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা
ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে খাবার
- শস্যজাতীয় খাবার: লাল চাল, ওটস, বার্লি
- রঙিন শাকসবজি: গাজর, বিট, ব্রকলি, পালংশাক
- মাশরুম: এরগোথিয়োনেইন ও সেলেনিয়াম
- অ্যালিয়াম জাতীয় সবজি: রসুন, পেঁয়াজ
- ক্রোসিফেরাস সবজি: বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি
- হার্বস: হলুদ, আদা, কালোজিরা
- বেরি ফল: ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, রাস্পবেরি
- রঙিন ফল: ডালিম, আপেল, অ্যাভোকাডো
- সামুদ্রিক মাছ: ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ
- অলিভ অয়েল
- ভিটামিন ডি: সূর্যের আলো, ডিম, স্যামন মাছ
- গ্রিন টি ও ব্ল্যাক কফি
- প্রোবায়োটিক খাবার: টক দই
- ডিম: প্রোটিন ও ওমেগা-৩
👉 এড়িয়ে চলতে হবে: মিষ্টি, চিনিযুক্ত খাবার, ট্রান্স ফ্যাট, অ্যালকোহল, ফাস্ট ফুড ও লাল মাংস।
উপসংহার
নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সচেতনতা ও প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা গ্রহণই প্রতিরোধের মূল উপায়।
এম এম এইচ আহমদ
মাদানী হোমিওপ্যাথিক ইন্টারন্যাশনাল
আরো পড়ুন
ভাল হয়ে গেল লিভার ক্যান্সারসহ টিউমার











