কার্সিনোমা
কার্সিনোমা হলো এক ধরনের ক্যান্সার যা শরীরের আবরণী বা এপিথেলিয়াল কোষ থেকে উৎপন্ন হয়। এটি সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সারের ধরন এবং প্রায় ৯০% ক্যান্সার নির্ণয়ে কার্সিনোমা পাওয়া যায়।
🔎 কার্সিনোমা কী
- কার্সিনোমা হলো একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার যা এপিথেলিয়াল টিস্যুতে শুরু হয়।
- এপিথেলিয়াল টিস্যু হলো শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলোর আস্তরণ, ত্বক, এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ পথকে ঢেকে রাখা কোষ।
- যখন কোনো কোষের DNA ক্ষতিগ্রস্ত বা পরিবর্তিত হয়, তখন কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হতে থাকে এবং টিউমার তৈরি করে। এভাবেই কার্সিনোমা গঠিত হয়।
🧬 কোথায় হতে পারে
কার্সিনোমা সাধারণত দেখা যায়:
- স্তন (Breast)
- ফুসফুস (Lung)
- প্রোস্টেট
- কোলন (Colon)
- কিডনি
- অগ্ন্যাশয় (Pancreas)
- ত্বক
⚠️ বৈশিষ্ট্য
- অস্বাভাবিক কোষ তৈরি হয় যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়।
- শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে (Metastasis)।
- সব ধরনের ক্যান্সার কার্সিনোমা নয়, তবে এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
📌 কার্সিনোমার ধরন
- Adenocarcinoma – গ্রন্থি কোষ থেকে উৎপন্ন।
- Squamous Cell Carcinoma – ত্বক বা আস্তরণী কোষ থেকে উৎপন্ন।
- Basal Cell Carcinoma – ত্বকের বেসাল স্তর থেকে উৎপন্ন।
- Transitional Cell Carcinoma – মূত্রথলি বা ইউরিনারি ট্র্যাক্টে দেখা যায়।
👉 সহজভাবে বললে, কার্সিনোমা হলো সেই ক্যান্সার যা শরীরের আবরণী কোষ থেকে শুরু হয় এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
আমাদের চেম্বারে এক বোন আসেন, যার পরীক্ষার রিপোর্টে কার্সিনোমা বা ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রমাণিত হয়েছিল। আমরা সব রিপোর্ট ভালোভাবে পর্যালোচনা করে চিকিৎসা শুরু করি। আল্লাহ তাআলার রহমতে আমাদের চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান। আলহামদুলিল্লাহ।
রোগ নির্ণয়ের ধাপসমূহ
| তারিখ | পরীক্ষা/টেস্ট | ফলাফল / মন্তব্য |
|---|---|---|
| 10/12/2019 | FNAC টেস্ট | Ductal Carcinoma ধরা পড়ে |
| 25/12/2019 | Biopsy টেস্ট | Ductal Carcinoma G11 নিশ্চিত হয় |
| 11/01/2020 | Immunocyte Histochemistry | Ductal Carcinoma ধরা পড়ে |
| 10/11/2020 | L Breast USG | Malignant Mass ও lymphadenopathy দেখা যায় |
| 23/11/2020 | CA 15.3 (Blood Test) | ক্যান্সারের পরিমাণ 17.90 (রেঞ্জের মধ্যে) |
| 04/06/2021 | CA 15.3 (Blood Test পুনরায়) | মাত্র 11.40 পাওয়া যায় |
সুস্থ হওয়ার প্রমাণ
📌 04/06/2021 – USG Both Breast 4D করালে কোনো Calcification, কোনো Abnormal Mass বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে সবকিছু স্বাভাবিক।
উপসংহার
এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। আল্লাহ তাআলার রহমতে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন।
আরো পড়ুন
মাথা ব্যথার প্রকার ও ঘরোয়া চিকিৎসা
ভাল হয়ে গেল লিভার ক্যান্সারসহ টিউমার











