কানে কম শোনা
কানে কম শোনা বা হিয়ারিং লস হলো এমন এক অবস্থা যেখানে শব্দ শোনার ক্ষমতা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে কমে যায়। এটি এক কানে অথবা দুই কানে হতে পারে। শ্রবণক্ষমতা সাধারণত তিন ভাগে বিভক্ত—
-
মৃদু হিয়ারিং লস
-
মাঝারি হিয়ারিং লস
-
তীব্র হিয়ারিং লস
শ্রবণশক্তি অত্যন্ত কমে গেলে তাকে বধিরতা বলা হয়। কারণভেদে এই সমস্যা অস্থায়ী বা স্থায়ী—উভয়ই হতে পারে।
কানে কম শোনার সাধারণ লক্ষণ
-
স্বাভাবিক শব্দ শুনতে কষ্ট হওয়া
-
শব্দযুক্ত পরিবেশে কথা বুঝতে অসুবিধা
-
কথা বলার সময় প্রতিক্রিয়া কম হওয়া
-
কথা শোনার জন্য খুব জোরে বলা বা শোনা
-
একই কথা বারবার জানতে চাওয়া
কানে কম শোনার প্রধান কারণ
🔶 প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে:
-
বয়সজনিত পরিবর্তন (Age-related hearing loss)
-
কানের ভেতরের স্নায়ু বা কোষ নষ্ট হওয়া
৪০ বছর বয়সের পর অনেকেই হালকা শ্রবণ সমস্যায় ভুগতে পারেন।
🔶 শিশুদের মধ্যে:
-
জেনেটিক বা বংশগত কারণ
-
গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ
-
গর্ভাবস্থায় বিষাক্ত ওষুধ ব্যবহার
-
জন্মের পর জণ্ডিস
-
জন্মের সময় কম ওজন
-
প্রসবের সময় অক্সিজেনের অভাব
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ
-
মেনিনজাইটিস, মিসেল, মাম্পসের মতো রোগ
-
বারবার কানে সংক্রমণ
-
ক্ষতিকর ওষুধ
-
মাথা বা কানে আঘাত
-
অতিরিক্ত কানের খইল জমে যাওয়া
-
উচ্চ শব্দের পরিবেশে কাজ করা
-
হেডফোন/ইয়ারফোন দীর্ঘসময় ব্যবহার
কানে কম শোনা কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
যদি নিয়মিত শোনার সমস্যা অনুভব করেন, তবে অবশ্যই একজন ইএনটি (ENT) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী—
-
অডিওমেট্রি টেস্ট
-
টাইম্পানোমেট্রি
-
কানের ভেতর পরীক্ষা
—ইত্যাদি করে কারণ নির্ণয় করা হয়।
হোমিওপ্যাথিতে কানে কম শোনার চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথিতে কানে কম শোনার জন্য অত্যন্ত কার্যকর কিছু সুনির্দিষ্ট ওষুধ রয়েছে। বহু মানুষ এ চিকিৎসায় উপকার পেয়েছেন। তবে সফল ফলাফল পেতে হলে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।
একজন বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক—
-
রোগীর পূর্ণ ইতিহাস
-
শারীরিক-মানসিক লক্ষণ
-
জীবনধারা
—সবকিছু বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট ওষুধ, সঠিক মাত্রা ও নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করেন।
যথাযথ চিকিৎসায় ইনশা আল্লাহ শ্রবণশক্তির উন্নতি সম্ভব।
Conclusion
কানে কম শোনা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বয়স, জিনগত কারণ, সংক্রমণ বা জীবনযাত্রা—সবকিছুই ভূমিকা রাখতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
এম এম এইচ আহমদ
মাদানী হোমিওপ্যাথিক ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের চিকিৎসার যারা সুস্থ্য হয়েছেন তাদের রিপোর্ট দেখতে উপরের মেনু “যারা সুস্থ হলেন” এ ক্লিক করুন।
আরো পড়ুন










