🧩 আইবিএস (IBS) কী?
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (Irritable Bowel Syndrome) বা সংক্ষেপে আইবিএস হলো পেট বা পরিপাকতন্ত্রের একটি কার্যগত (Functional) সমস্যা। এটি কোনো সংক্রামক বা মারাত্মক রোগ নয়। এ রোগে পরিপাকতন্ত্রের গঠনগত কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না, তবে অন্ত্রের কার্যক্ষমতায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়।
আইবিএস নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে, তবে নারীরা এতে তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রান্ত হন। যারা সবসময় মানসিক চাপ বা উদ্বেগে থাকেন, তাদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়।
⚙️ আইবিএস হওয়ার কারণ
যদিও আইবিএসের নির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি, তবুও নিচের কারণগুলো সাধারণত দেখা যায় —
-
পরিপাকনালির পেশির অস্বাভাবিক সংকোচন ও প্রসারণ
-
স্নায়ু সংকেতের ভারসাম্যহীনতা
-
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
-
পরিপাকতন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিবর্তন
এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার রিপোর্ট সাধারণত স্বাভাবিক থাকে, তবুও তারা নানা ধরনের অস্বস্তি অনুভব করেন।
⚠️ আইবিএসের লক্ষণ
আইবিএস সাধারণত দুটি প্রধান উপসর্গে প্রকাশ পায় —
-
পেটে ব্যথা বা ক্র্যাম্প অনুভব করা
-
মল ত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন (ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য)
কিছু খাবার এই উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে, যেমন —
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, শাকসবজি, সালাদ, অতিরিক্ত তেলে ভাজা ও মসলাযুক্ত খাবার ইত্যাদি।
তবে সুখবর হলো, আইবিএস কোনো প্রাণঘাতী বা ক্যানসারজনিত রোগ নয়। সঠিক জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণে রাখলে এটি অনেকাংশে উপশম হয়।
🩸 আইবিএস কি ঝুঁকিপূর্ণ রোগ?
না। আইবিএস সংক্রামক নয়, বংশগত নয়, এবং অন্ত্রের ক্যানসারের কারণও নয়।
এ রোগে ভয় বা আতঙ্কের কিছু নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখাই মূল সমাধান।
👉 রোগীর উচিত চিকিৎসকের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক তৈরি করা এবং এক চিকিৎসককে ধারাবাহিকভাবে ফলো করা।
বারবার চিকিৎসক পরিবর্তন করলে সঠিক ফল পাওয়া যায় না।
🌿 আইবিএস নিয়ে ভালো থাকার উপায়
আপনি কিছু সহজ পরিবর্তনের মাধ্যমে আইবিএস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন —
✅ যেসব খাবারে সমস্যা বাড়ে (দুধ, শাকসবজি, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার, কফি, বেকারি ইত্যাদি) তা এড়িয়ে চলুন।
✅ প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন, এতে গ্যাস ও ফাঁপা ভাব কমে।
✅ একসঙ্গে অনেক না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খান।
✅ নিয়মিত খাবারের সময় বজায় রাখুন।
✅ মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন, নামাজ, যোগব্যায়াম বা শান্তিমূলক অভ্যাস করুন।
💊 আইবিএসের চিকিৎসা (Allopathic Treatment)
আইবিএসের চিকিৎসা লক্ষণভিত্তিক হয়।
-
IBS-D: ডায়রিয়া প্রবণ
-
IBS-C: কোষ্ঠকাঠিন্য প্রবণ
-
IBS-M: উভয় লক্ষণ বিদ্যমান
চিকিৎসা সাধারণত উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধ, ডায়েট ও মানসিক থেরাপির মাধ্যমে করা হয়।
বর্তমানে আইবিএসের জন্য একক কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই — রোগীর শারীরিক প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী চিকিৎসা পরিবর্তিত হয়।
🌱 আইবিএসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথিতে আইবিএসের চিকিৎসা বেশ কার্যকর বলে অনেকেই মনে করেন।
একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক রোগীর পূর্ণ ইতিহাস বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট ওষুধ, মাত্রা ও সময় নির্ধারণ করেন।
অতএব, নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন — ইনশা আল্লাহ ভালো ফল পাবেন।
✍️ লেখক:
এম এম এইচ আহমদ
মাদানী হোমিওপ্যাথিক ইন্টারন্যাশনাল
📌 FAQ
❓ আইবিএস কি স্থায়ী রোগ?
না, এটি স্থায়ী নয়। জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
❓ আইবিএস কি সংক্রামক?
না, এটি সংক্রামক নয়।
❓ আইবিএস থেকে কি ক্যানসার হয়?
না, আইবিএস ক্যানসারের কারণ নয়।
❓ আইবিএসের সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা কী?
রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা এবং মানসিক প্রশান্তিই হলো সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
আরো পড়ুন












