সাইনোসাইটিস ও প্রতিরোধ
মানুষের নাকের আশপাশের হাঁড়গুলোর ভেতরে কিছু গর্ত রয়েছে, যা বাতাসে পরিপূর্ণ থাকে। এই গর্তগুলোইকেই সাইনাস বলে। এই অঙ্গটি মূলত শরীরে বাতাস চলাচলে সাহায্য করে থাকে। একজন মানুষের নাকের আশপাশে সব মিলিয়ে প্রায় আটটি সাইনাস থাকে। যথা:- ১. ম্যাক্সিলারি সাইনাস, ১. স্পেনয়েড সাইনাস, ৩. ইথময়েড সাইনাস, ৪. ফ্রন্টাল সাইনাস। এই নামে নাকের দুই পাশে দুটি করে সাইনাস থাকতে পারে। এইগুলোর মধ্যে ম্যাক্সিলারি সাইনাস সবচেয়ে বড়। সাইনাসের কোষগুলোতে কোনো প্রকার প্রদাহ হওয়াকে সাইনোসাইটিস বলে। সাইনোসাইটিসের কারণে সাধারণত সাইনাসের ফাঁপা অংশগুলো তরল ফ্লুইড দিয়ে আটকে যায়। তখন সেখানে প্রদাহ হয় এবং সাথে সাথে বিভিন্ন জীবাণু বংশবিস্তার করতে পারে।
কারণ কি?
সাইনোসাইটিস বিভিন্ন কারণে হতে পারে। সাধারণত নাকের মিউকাস মেমব্রেনের প্রদাহ ও ফুলে যাওয়াকেই রাইনাইটিস বলা হয়। এতে নাক ভারী হয়ে যায়, নাকের ভেতরের শিরা (ভেইন), মিউকাস মেমব্রেন ফুলে গিয়ে নাকের ভেতরে ব্লক তৈরি করে। আরও কিছু কারণ—
- অ্যালার্জিক রাইনাইটিস,
- ঠান্ডাজনিত সাইনোসাইটিসভ,
- নাকের মাংস বেড়ে গেলে,
- পলিপাস থাকলে,
- নাকের হাড় বাঁকা থাকলে,
- ডিএনএস বা ডিভিয়েটেড ন্যাসাল সেপটামের কারণেও সাইনোসাইটিস হতে পারে।
- টনসিলাইটিস ও এডিনয়েডে সংক্রমণও একটি কারণ।
সাইনোসাইটিস এর প্রকার
অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস, সাবএকিউট সাইনোসাইটিস, ক্রনিক সাইনোসাইটিস।
- অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস: এর লক্ষণগুলো ২-৪ সপ্তাহ থাকে।
- সাবএকিউট সাইনোসাইটিস: এর লক্ষণগুলো ৪-১২ সপ্তাহ থাকে।
- ক্রনিক সাইনোসাইটিস: এর লক্ষণগুলো ১২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকলে একে ক্রনিক সাইনোসাইটিস বলে।
কারা আক্রান্ত হয়?
কারা সাইনোসাইটিস এ আক্রান্ত হয় এটা নির্দি্টি করে বলা যাবে না। বয়সের কোন বিষয় নাই। যেকোনো বয়সের ব্যক্তিই সাইনাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে যাদের ঠান্ডাজনিত সমস্যা আছে, তাদের সাইনোসাইটিসের ঝুকি বেশি থাকে।
উপসর্গ
১. মাথার সামনের অংশে ব্যথা। ২. মুখে ব্যথা, ৩. মাথা ভার ভার অনুভব হওয়া। ৪. নাক ভার হয়ে থাকা, ৫. নাক দিয়ে পানি পড়া, ৬. নাক বন্ধ মনে হওয়া। ৭. সর্দি, জ্বর ও কাশি হওয়া।৮. গাঢ়, হলদে রঙের ন্যাসাল ডিসচার্জ।৯. ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া। ১০. নিশ্বাসের সময় ব্যতিক্রমী ঘ্রাণ ১১. খাবারের স্বাদ বা রুচি নষ্ট হয়ে যায়।
প্রতিরোধ
সাইনোসাইটিস প্রতিরোধের জন্য যা করতে হবে—
- ধুলো–বালি থেকে দূরে থাকতে হবে। ঘন ঘন যেন ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
- পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং প্রচুর ভিটামিনযুক্ত খাবার খেতে হবে।
- সরাসরি ফ্যানের নিচে বা এসি বরাবর থাকা যাবে না। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় সতর্ক থাকতে হবে।
- গরম ভাপ বা মেন্থলের ভাপ নেওয়া যায়। এর মাধ্যমে দ্রুত শ্লেষ্মা বের হয়ে সাইনাসের সমস্যায় দ্রুত উপশম দেয়।
- ধূমপান থেকে দূরে থাকতে হবে।
- ঠান্ডা খাওয়া যাবে না।
- অ্যারোসোল, মশার কয়েলের ধোঁয়া, এয়ারফ্রেশনারসহ যেকোনো ধরনের ধোঁয়া ও স্প্রে থেকে দূরে থাকতে হবে।
- সাইনাসের সমস্যা থাকলে, বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
- সাইনাসের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডাক্তারে পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।
দুরারোগ্য জটিল রোগসমূহের চিকিৎসা নেয়ার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম আপনার কাজ হলো, এক্সপার্ট একজন হোমিও চিকিৎসক খুঁজে বের করা। অন্যথায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাতেও আপনার মুল্যবান সময় নষ্ট হবে। শেষে সবদোষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার হবে। অথচ চিকিৎসকের কাছে না যাওয়ায় তার কোন সঠিক চিকিৎসাই হয়নি। একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক রোগীর রোগ পর্যবেক্ষণ করেন । এর প্রয়োজনীয় তথ্যাদি বের করে নির্দিষ্ট ঔষধ, নির্দিষ্ট মাত্রায়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আপনার শরীরে প্রয়োগ করেন। নির্দিষ্ট সময়ের পর আপনার সব সমস্যা সমাধান হবে। ইনশা আল্লাহ
এম এম এইচ আহমদ
মাদানী হোমিওপ্যাথিক ইন্টারন্যাশনাল
আরো পড়ুন
ভাল হয়ে গেল লিভার ক্যান্সারসহ টিউমার











