পাইলস
মলদ্বারে যে ধরনের রোগ হয়। এর মধ্যে পাইলস অন্যতম রোগ। অনেকেই পাইলসের সমস্যায় নিয়ে কষ্ট করে। অনেকেই চিকিৎসকের কাছে লজ্জায় যেতে চান না । যদি পাইলস দীর্ঘ দিন থাকে তাহলে দীর্ঘ দিন নানা সমস্যা হতে পারে। তাই সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন। মলদ্বারে সমস্যা হলেই যে পাইলস হবে তাও না। বিভিন্ন কারণে মলদ্বারে সমস্যা হতে পারে।
পাইলস এর চিকিৎসা পদ্ধতি:
বর্তমানে পাইলস চিকিৎসার জন্য অনেক ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। যেমন:-1. বিনা অপারেশন 2. ইনজেকশন, 3. রিংলাইগেশন, 4. ইলেকট্রোকোয়াগুলেশন, 5. ক্রায়োথেরাপি, 6. ইনফ্রারেড ফটোকোয়াগুলেশন, 7. এনাল ডাইলেটেশন, 8. লেজার থেরাপি, 9. প্রচলিত অপারেশন 10. লংগো অপারেশন।
1. বিনা অপারেশন:
বিনা অপারেশনে ঔষধ সেবন করে পাইলসের চিকিৎসা করা যায়।
2. ইনজেকশন:
ইনজেকশন দেয়ার ফলে মিউকাস ঝিল্লির তলায় পাইলস শক্ত ও সংকুচিত হয়। ফলে পাইলসের ফুলে ওঠা মাংসপিণ্ডটি ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকে এবং রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়। কেউ কেউ পাইলসে ইনজেকশনের নাম করে বিষাক্ত কেমিক্যাল প্রয়োগ করেন। যার ফলে তীব্র বিষক্রিয়ায় মলদ্বারে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, মলদ্বারে পচন ধরে, জ্বর আসে এবং দুর্গন্ধ হয়।
3. রিংলাইগেশন,
একটি বিশেষ যন্ত্র যার দ্বারা অপারেশন ছাড়াই পাইলস এর চিকিৎসা করা যায়। সেটা ১৯৫৪ সালে ডা: ব্লেইসডেল প্রথম এ যন্ত্রটি আবিষ্কার করেন এবং এর সাহায্যে তিনি বিনা অপারেশনে বহির্বিভাগে পাইলসের সফল চিকিৎসা পদ্ধতি প্রদর্শন করে সবার সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ১৯৬২ সালে ডা: জে ব্যারন এই যন্ত্রটির উন্নততর সংস্করণ বের করেন
4. ইলেকট্রোকোয়াগুলেশন,
ইলেকট্রোকোয়াগুলেশন হলো বৈদ্যুতিক প্রবাহ ব্যবহার করে পাইলসকে ধ্বংস করা। প্রক্টোস্কোপ নামক একটি যন্ত্র মলদ্বারে স্থাপন করা হয় এবং পাইলসকে সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। তারপরে একটি প্রোব পাইলের গোড়ায় স্থাপন করা হয় এবং প্রোবের সাথে সংযুক্ত একটি হ্যান্ড পিস ব্যবহার করে পাইলে একটি বৈদ্যুতিক প্রবাহ সরবরাহ করা হয়। এতে পাইলের রক্ত ঘন করে।
5. ক্রায়োথেরাপি,
ক্রায়োসার্জারি অস্ত্রোপচারের অন্যতম একটি আধুনিক পদ্ধতি। অস্বাভাবিক টিস্যু ধ্বংস করতে নাইট্রোজেন গ্যাস বা আর্গন গ্যাস হতে উৎপাদিত প্রচন্ড ঠান্ডা তরল ত্বকের বাহ্যিক চামড়ার চিকিৎসায় ব্যবহূত হয় যা ক্রায়োসার্জারি নামে পরিচিত। সোজা কথা হলো খুব শীতলীকরণ তরল পদার্থ প্রয়োগের মাধ্যমে অস্বাভাবিক টিস্যুকে ধ্বংস করার চিকিৎসা পদ্ধতিকে ক্রায়োসার্জারি বলে।
6. ইনফ্রারেড ফটোকোয়াগুলেশন,
বিশেষ ধরনের যন্ত্রের মাধ্যমে তাপ প্রয়োগ করে পাইলস কুণ্ডলীতে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালিটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটি একটি ব্যথাবিহীন চিকিৎসাপদ্ধতি, কিন্তু এই চিকিৎসা বহুল ব্যবহৃত নয়।
7. এনাল ডাইলেটেশন,
মলদ্বারের মাংসপেশির সম্প্রসারণ করা এনাল ডাইলেটেশন- এ পদ্ধতিটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি। পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি।
8. লেজার থেরাপি,
যে পাইলস লেজার বিম দিয়ে কাটা হয় । প্রচলিত অপারেশনের মতো লেজার অপারেশনেও তিনটি ক্ষত স্থান হবে। লেজার অপারেশনের পর সাধারণত অপারেশনের মতোই ব্যথা হয় ঘা শুকাতে ১-২ মাস সময় লাগে।
9. প্রচলিত অপারেশন
প্রচলিত অপারেশনে মলদ্বারের তিনটি মাংসপিণ্ড কাটতে হয়। যা আজকাল শুধু তারাই করে, যারা রিং লাইগেশনের জন্য উপযুক্ত নয় এবং লংগো অপারেশন এর যন্ত্র কিনতে অক্ষম।
10. লংগো অপারেশন।
লংগো অপারেশনে বাইরে কাটা-ছেঁড়া না থাকায় অপারেশনের পর ব্যথা একেবারে হয় না বললেই চলে। অপারেশনের সময় রক্তপাত হয় না, রোগী একদিনের মধ্যে বাসায় চলে যেতে পারেন।
পাইলস হওয়ার কারণ:
বিভিন্ন কারণে পাইলস হতে পারে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে ।
- চাপ দিয়ে মলত্যাগ করলে।
- অনিয়মিত পায়খানা হলে।
- তীব্র ডায়রিয়া হলে।
- গর্ভাবস্থা থাকলে।
- ওবেসিটি তথা অতিরিক্ত শারীরিক ওজন হলে।
- দীর্ঘদিনের কাশি ইত্যাদি।
- দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করলে।
- বংশগত কারণেও পাইলস হয় ।
পাইলসের লক্ষণ:
- পায়খানার সময় রক্ত যাওয়া।
- পায়ুপথের আশপাশে চুলকানি।
- পায়খানার সময় ব্যথা।
- মলদ্বার দিয়ে মাংসপিণ্ড বেরিয়ে আসা।
- অনিয়মিত মলত্যাগ ইত্যাদি।
সবার একই রকম লক্ষণ হয় না। একেক জনের একেক রকম লক্ষণ দেখা দেয়।
পাইলস রোগের পরীক্ষা:
অনেক সময় রোগীর সমস্যা জেনেই পাইলস রোগটি নির্ণয় করা যায়। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যেতে পারে। যেমন :
- ডিজিটাল রেকটাল এক্সামিনেশন
- প্রক্টোস্কপি
- কোলোনোস্কোপি
- সিগময়ডোস্কোপি ইত্যাদি।
পাইলস প্রতিরোধে করণীয়:
৭০ শতাংশ পাইলসের জন্য দায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে বেঁচে থাকলে পাইলস থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। পাইলস প্রতিরোধে আরো যা করা উচিত তা হলো:-
- নিয়মিত আঁশজাতীয় খাবার এবং শাক-সবজি বেশি খাওয়া।
- দৈনিক 10 গ্লাস পানি পান করা।
- গোশত, তেল-চর্বি, ভাজা-পোড়া কম খাওয়া।
- দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা
- ইসুবগুলের ভুসি পানিতে ভিজিয়ে সাথে সাথে খাওয়া।
পাইলসে হোমিও চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথিতে পাইলসের খুব ভাল চিকিৎসা আছে। অপারেশন ছাড়া ঔষধ সেবনেই সুস্থ হওয়া যায়। ব্যথ্যা দ্রুত চলে যায়। রক্তপরা বন্ধ হয়ে যায়।
মনে রাখবেন, শুধু শুধু চক্ষুলজ্জায় পাইলসকে গোপন রাখলে চিকিৎসা না নিলে জটিলতা বাড়ে।
এম এম এইচ আহমদ
মাদানী হোমিওপ্যাথিক ইন্টারন্যাশনাল
আরো পড়ুন







