গাউট রোগ কি
গাউট হলো এক ধরনের বাত বা আর্থ্রাইটিস, যা হঠাৎ করে ইনফ্লামেটরি জয়েন্টের ব্যথা, শ্বেতি এবং স্থানীয় তাপ প্রদর্শন করে। গাউটের প্রধান কারণ হলো রক্তে উরিক এসিডের স্তরের বৃদ্ধি, যাকে হাইপারুরিসেমিয়া বলা হয়। এই অবস্থায়, উরিক এসিড ক্রিস্টালসমূহ জয়েন্টের ক্যাপসুল অথবা আশেপাশের টিস্যুতে জমা হতে পারে, এটি প্রদাহ এবং তীব্র ব্যথার কারণ হয়ে উঠে।
গাউটের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- হঠাৎ শুরু: রোগীরা প্রায়ই রাতারাতি জয়েন্ট ব্যথা, প্রদাহ এবং লালচে ভাব অনুভব করে। এটি প্রায়ই গোড়ালির জয়েন্টে বেশি প্রভাবিত করে।
- জোড়ার সমস্যা: অনেক সময়, গাউট একাধিক জয়েন্ট আক্রমণ করতে পারে।
- উরিক এসিডের স্তর: অধিকাংশ ক্ষেত্রে, গাউট উরিক এসিডের অতিরিক্ত স্তরের কারণে ঘটে, যেটি খাদ্য হজম অথবা শরীরের নিজস্ব টিস্যুতে প্রাপ্ত হয়।
গাউটের কারণ সমূহ:
গাউট এর মূল কারণ হল উরিক এসিড (uric acid) এর অধিক পরিমাণ রক্তে জমা হওয়া। উরিক এসিড হল পিউরিন নামক ফোলের বিপাকীয় প্রোডাক্ট, যা আমাদের দেহে স্বাভাবিকভাবে উৎপাদিত হয় এবং কিছু খাবারেও থাকে।
কিছু সাধারণ কারণ নিম্নরূপ:
- জিনগত প্রবনতা:
- যদি পরিবারে গাউটের ইতিহাস থাকে, ব্যক্তির এ সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে।
- খাদ্যাভাস:
- মাংস, সীফুড, ফ্রুকটোজ সমৃদ্ধ পানীয় এবং অ্যালকোহলের এই পরিমাণ গ্রহণ করা গাউটের ঝুঁকি বাড়ায়।
- ওজন এবং স্থূলতা:
- অধিক ওজন থাকলে শরীরে উরিক এসিড নির্মূল করার ক্ষমতা কমে যায়।
- মেডিকেশন:
- কিছু প্রকারের ঔষধ যেমন থাইয়াজাইড ডাইউরেটিক্স, বিটা-ব্লকার্স, এবং ইমিউনোসাপ্রেসিভ এজেন্টগুলি উরিক এসিডের মাত্রা বাড়ায়।
- ডিহাইড্রেশন এবং তরলপানের অভাব:
- পর্যাপ্ত পানি না পান করা থেকে উরিক এসিড ঘনীভূত হয়ে ক্রিস্টালে পরিণত হতে পারে।
- অন্যান্য স্বাস্থ্য অবস্থা:
- হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, মেটাবলিক সিন্ড্রোম, এবং হৃদ্রোগ উরিক এসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- অগ্রসর বয়স এবং লিঙ্গ:
- পুরুষেরা এবং মেনোপজ পরবর্তী নারীরা গাউটের অধিক ঝুঁকিতে থাকে।
- জিনগত কারণ:
- কিছু ব্যক্তিদের উরিক এসিড ক্ষরণের ক্ষমতা জেনেটিকালি কম থাকে।
গাউট এমন একটা রোগ যেটা চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা যোগ্য, তবে উরিক এসিডের স্তরের সমুচিত নজরদারি প্রয়োজন।
চিকিৎসা:
- এন্টি-ইনফ্লামেটরি ড্রাগ্স: অনেক সময় নন-স্টেরয়েডাল এন্টি-ইনফ্লামেটরি ড্রাগ্স (NSAIDs) আক্রান্ত স্থানে প্রদাহ এবং ব্যথা হ্রাস করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- কোলচিসিন: একটি বিশেষজ্ঞাগু ঔষধ, যা গাউটের ব্যথা নিবারণে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর।
- স্টেরয়েড: কর্টিকোস্টেরয়েডস ইনজেকশন বা মুখে নেওয়ার মাধ্যমে প্রদাহ এবং ব্যথা হ্রাস করতে পারে।
প্রতিরোধ:
গাউট প্রতিরোধের জন্য জীবনযাত্রায় বিশেষ কিছু পরিবর্তন এবং সচেতনতা জরুরি। এখানে কিছু প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের বিবরণ দেওয়া হলো:
- ডায়েট সংযম:
- উচ্চ পিউরিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন লাল মাংস, সীফুড, অধিক পরিমাণে অ্যালকোহল (বিশেষত বিয়ার) এবং মিষ্টি পানীয় খাওয়া এড়িয়ে চলা। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা, মতো সবজি, নাটস্, সাবধানতার সাথে ডেইরি প্রোডাক্ট এবং হোল গ্রেইন প্রডাক্ট খাওয়া।
- পানীয় জল:
- দেহের হাইড্রেট রাখা এবং উরিক এসিডের স্তর নিয়ন্ত্রণে বেশি পরিমাণে পানি পান করা।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ:
- স্থূলতা এবং ওভারওয়েট হলে ওজন হ্রাস করা। ওজন হ্রাসের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা।
- শারীরিক সক্রিয়তা:
- নিয়মিত চর্বি ঝরানোর জন্য ব্যায়াম এবং ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি বাড়ানো।
- মদপান সীমিত করা:
- মদপান হলে, এর পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া, বিশেষ করে বিয়ার।
- আহার সম্পূরণ:
- ভিটামিন C এবং চেরি জুস গাউট প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে। তবে এগুলো নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।
- ঔষধ প্রধান:
- যেকোনো নতুন ঔষধ ব্যবহার করার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা।
- মেডিকেশন সচেতনতা:
- জেনে শুনে ঔষধের গ্রহণ করা যা হয়ত উরিক এসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে।
এই পদক্ষেপগুলি নিতে বিভিন্ন রোগীর জন্য উরিক এসিডের মাত্রা কমাতে এবং গাউটের আক্রমণ এড়ানো কিংবা হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে। তবে যেকোনো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুব জরুরি।












